loader image
শিরোনাম

জ্বালানির রিজার্ভ তিন মাসে উন্নীত করার জন্য কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

ডিসিসিআইতে ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব
ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনার

নিজ্স্ব প্রতিবেদক

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনার শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক-এর চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)’র চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার দেশে একটি ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, কারণ স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয় এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক না কেন, সেগুলো নিরসন করা হবে। তিনি বলেন, ডিরেগুলোশন বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটা কঠিন, তবে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এখানে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ী সমাজের সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার একটি ওয়েবসাইট তৈরি উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি অবহিত করেন।
তিনি জানান, বিদ্যমান বিদ্যুৎ, গ্যাসের সমস্যার সমাধান একদিনে হবেনা, এর জন্য সময় প্রয়োজন এবং জ্বালানি খাতে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যারা উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে পারবে, তারা ঋণ সহায়তা পাবে, কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনোমি’ নামে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যেখানে উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি, দক্ষতা বাড়ানো, উৎপাদিত পণ্যের ডিজাইন এবং পণ্যের বাজারজাতকরণ প্রভৃতি সেবা প্রদান করা হবে। পৃষ্টপোষকতার অর্থনীতি হতে গণতান্ত্রিক অর্থনীতির দিক দেশকে ধাবিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্যাক্স জিডিপি’র অনুপাত বাড়ানো না গেলে সরকারের কোন উদ্যোগই সফল হবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে অটোমেশনের কোন বিকল্প নেই, এছাড়াও অর্থায়নের জন্য প্রচলিত উৎসের বাইরে বিকল্প ফাইন্যান্সিং বাড়াতে দেশের পুঁজিবাজার কে শক্তিশালীকরণে ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, শীঘ্রই এর সুফল দেশবাসী পাবেন, সেই সাথে বেশকিছু বন্ড প্রবর্তনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সরকারের জ্বালানীর বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪-৫ বিলিয়ন খরচ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই সরকার অন্যতম অগ্রাধিকার, তবে প্রাথমিকভাবে সৌরশক্তির উপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বাজেটে এ লক্ষ্যে নানাবিধ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, যেগুলো গ্রহণ করে এখাতে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৩.১%, যার প্রধান কারণ গুলো হলো: বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এবং সাপ্লাইন চেইন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং এর ফলে সামগ্রিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইশেনের মাধ্যমে ৪৮ ঘন্টায় সম্পন্নকরণ, চামড়া, পাকুদা ও হোম টেক্সটাইল খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা ৩বছর বৃদ্ধি করা, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ১০টি নতুন খাতের জন্য নতুন শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান, কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন কার্যক্রম বৃদ্ধি ও কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুতকরণ এবং এলডিসি’র প্রস্তুতি হিসেবে রপ্তানির সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে পিটিএ ও এফটিএ স্বাক্ষর দ্রুতকরণ প্রভৃতি বেশকিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশে ব্যবসা পরিচালনা প্রক্রিয়া আরো সহজতর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দীর্ঘসময়ের জন্য বজায় থাকা উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ২৫.৯% হলেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হয়েছে মাত্র ৫%, যা বিনিয়োগের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ঋণ হতে ব্যাংক ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হবে, সেই সাথে রপ্তানিতে লিডটাইম হ্রাসে শিল্পাঞ্চলসমূহে সকল ধরনের সেবার নিরবিচ্ছিন্ন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও দেশের সামগ্রিক লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে পিপিপি মডেলের আওতায় বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষনের উপর জোরদেন তাসকীন আহমেদ। ডিসিসিআই সভাপতি জানান, সিএমএসএমই খতে প্রকৃত ঋণ প্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশের বিপরীতে মাত্র ১৬.৮ শতাংশে আটকে আছে এবং ব্যবসায়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই খাতে খেলাপী ঋণ বেড়ে ২৪.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং এ বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় প্রথাগত জামানত ভিত্তিক ঋণের বদলে ডিজিটাল স্কোরিং-এর মাধ্যমে ক্যাশ ফ্লো বাড়ানো এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির জন্য বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়াও, বিশেষ করে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ সহজ করতে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা চালুকরণ, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকির চাপ কমানোর পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও সহনীয় বিদ্যুৎ মূল্য নিশ্চিত, বৈশ্বিক বাজারের মূল্য অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা একটি যুগসন্ধীক্ষনে রয়েছি, এখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্খিত গতি পরিলক্ষিত হবে না, বরং পিছিয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতির নানাক্ষেত্রে হয়রানি বিষয়টি একটা নেতিবাচক কাঠমোতে পরিণত হয়েছে, ফলে সংষ্কার কার্যক্রম কাজে আসছে না, এটার উপর সরকারের নজর দিতে হবে এবং করজাল সম্প্রসারণে এধরনের হয়রানি কমানোর কোন বিকল্প নেই, এক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা একান্ত আবশ্যক। আমাদের অর্থনীতি রেজিলিয়েন্ট হলেও কাঙ্খিত কর্মসংস্থান তৈরিতে ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। হোসেন জিল্লুর আরো বলেন, খেলাপী ঋণ কমাতে বিদ্যমান কাঠমোগত সমস্যা নিরসন করতে হবে, পাশাপাশি এসএমইদের ঋণ সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নজরদারির জন্য ‘ইমোনোমিক রিফর্ম এক্সিলারেশন ইউনিট’ গঠন করার প্রস্তাব করেন বিশিষ্ট এ অর্থনীতিবিদ।

আইসিসি-বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রে মূল্যস্ফীতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় নেমে আসেনি, একই সঙ্গে বেসরকারিখাতে ঋণপ্রবাহ দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং শিল্পখাত পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না। সেই সাথে উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হার এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব আহরণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতের আস্থা, সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে একটি স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিতের উপর জোরারোপ করেন।

পিআরআই’র চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, আমাদের নীতিমালা এবং বাস্তবায়নের মধে বেশ ফারাক রয়েছে, ফলে কাঙ্খিত সুফল পরিলক্ষিত হচ্ছে না। রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে আমরা যতটা উদার, পণ্য আমদানিতে যতটাই কঠিন নীতিমালা, উচ্চ শুল্কহার থাকায় স্থানীয় ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের মূল্য বাড়ছে বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও এলডিসি উত্তরণের জন্য যে সময়সীমা রয়েছে, তার মধ্যে যথাযথ কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তায়নের আহ্বান জানান তিনি।

সিপিডি-এর সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিল্পব ঘটাতে হবে এবং বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভব খুবই কম। তিনি বলেন, বাজেটের ভালো উদ্যোগ থাকলেও মুদ্রানীতিতে সেটার প্রতিফলন নেই, ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরী। এছাড়াও জনগন যে পরিমাণ কর দিচ্ছেন, সেটাও কোষাগারে জমা হচ্ছে না, বিষয়টি বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িঁয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও বিদেশী ঋণ গ্রহণ ও ঋণ পরিশোধে আরো সতকর্ত হতে হবে তিনি পরামর্শ প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায়, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ট্রান্সকম লিমিটেড-এর গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সীমিন রহমান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। ড. এ কে এনামুল হক বলেন, রেমিট্যান্স নির্ভর অর্থনীতির জন্য দীর্ঘসময়ের জন্য মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার খুবই উদ্বেগের বিষয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করা বেশ কঠিন, তাই ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর উপর নজর দিতে হবে। এছাড়াও সার্বিকভাবে বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতের কোন বিকল্প নেই বলে তিন মত প্রকাশ করেন। সীমিন রহমান বলেন, বাজেটে ব্যবসা সহায়ক পলিসি থাকলেও বেসরকারিখাতে কাক্ষিত গতি আসেনি, এজন্য উচ্চ সুদ হার ও মূল্যস্ফীতি, খেলাপীর ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত হতে সরকারের অধিকহারে ঋণ গ্রহণই প্রধানত দায়ী, এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাবৃন্দ। এছাড়াও শিল্পখাতের কাঁচামালের মূল্য বেশি থাকায় পণ্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দর ও কাস্টমস লজিস্টিক সেবার দক্ষতা বাড়াতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, মুদ্রানীতি ও বাজেটে কাঠামাগত সমন্বয়ে দূর্বলতা রয়েছে। কর ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন এবং দক্ষ জনবল তৈরির উপর তিনি জোরারোপ করেন। জ্বালানি প্রাপ্তি সহ সহায়ক পরিবেশ না নিশ্চিত করা গেলে সুদ হার কমালেও স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না বলে তিনি অভিমত জ্ঞাপন করেন।

সেমিনারের মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি হোসনে খালেদ বলেন, রিয়েল এস্টেট খাতকে বাংলাদেশে কখনই শিল্প হিসেবে গণ্য করা হয়নি, যদিও এর মাধ্যমে অসংখ্য লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে, তাই এ খাতটি শিল্প হিসেবে স্বীকৃতির আহ্বান জানান। প্রাক্তন সভাপতি আবুল কাসেম খান জানান, আমাদের প্রায় ৭৫ বছরের কয়লার মজুদ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ মজুদকৃত কয়লা ব্যবহার করা গেলে শিল্পখাতে গ্যাস ব্যবহার বাড়ানো যাবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশের লজিস্টিক খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারের একটি একক সংস্থা স্থাপন এবং সকল করদাতাদের জন্য ট্যাক্স কার্ড প্রদানের উদ্যোগী হওয়ার জন্য তিনি সরকারের আহ্বান জানান। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ের জন্য অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতির উপর জোরারোপ করেন প্রাক্তন সভাপতি বেনজীর আহমেদ। প্রাক্তন সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, সরকারের মোট রাজস্বের ৯৬ শতাংশই আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম হতে, তাই বিদ্যমান করদাতাদের উপর চাপ না বাড়িয়ে করজালের আরো সম্প্রসারণ এবং এক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্দিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের বাড়নোর প্রয়োজন। দেশের এসএমএমইদের জন্য পৃথক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দেরও প্রস্তাব করেন তিনি।

এ সময় ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোঃ সালিম সোলায়মান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ সহ সরকারি-বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top