নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বেতন-ভাতা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে ‘এ৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রটির নম্বর ‘বিআরপিডি-১ সার্কুলার লেটার নং-২৯’। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারিকৃত পরিপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে ‘এ৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতাদি ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করার বিষয়টি স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে। এর ফলে এ ধরনের বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের বিপরীতে প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো অস্পষ্টতা থাকার কথা নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘এ৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে আসা বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয়টি ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, বিদেশি নাগরিকের বৈধ কর্মসংস্থান ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রাপ্য বেতন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ স্পষ্টীকরণে বিদেশি নাগরিকদের বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বৈধভাবে কর্মরত বিদেশিদের আর্থিক লেনদেনকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পথ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিপত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বলা হয়েছে, ‘এ৩’ ক্যাটাগরিসহ অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরির আওতায় বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ‘গ্রাহক পরিচিতি’ বা কেওয়াইসি বিধি যথাযথভাবে পরিপালন সাপেক্ষে তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে বৈধভাবে কর্মরত থাকলে এবং তার ভিসা ও কর্মসংস্থানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করা হলে ব্যাংকগুলো প্রযোজ্য কেওয়াইসি বিধিবিধান অনুসরণ করে তার ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করতে পারবে।
এ নির্দেশনার ফলে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে নগদ বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের সুযোগ আরও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের আয়, বেতন পরিশোধ ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের একটি স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রচলিত কেওয়াইসি বিধান অনুসরণ করতে হবে। ফলে বিদেশি নাগরিকের পরিচয়, বৈধ ভিসা, কর্মসংস্থানের ধরন, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে ব্যাংককে হিসাব খোলার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে বিদেশি নাগরিকদের হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ গ্রাহক যাচাই ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, উন্নয়ন প্রকল্প ও অন্যান্য পেশায় বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান রয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ থাকায় নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও প্রাতিষ্ঠানিক হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫(৪) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ফলে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশে বৈধভাবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংকিং সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্পষ্টীকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনকে নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
