নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেবে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে নির্বাচন থেকে দূরে থাকছে না দলটি। দলীয় প্রতীক না থাকায় জামায়াতের সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নয় দফা দাবি তুলে ধরে দলটি।
বৈঠক শেষে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় জামায়াত কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে না। তবে দলের সমর্থন নিয়ে আগ্রহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় জোট বা আনুষ্ঠানিক প্রতীকভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াত। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের তথ্য উঠে এসেছে। দলটির পক্ষ থেকেও স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কাজ করার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের আচরণবিধির খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
জামায়াতের নয় দফা দাবির মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার বিষয়টিও রয়েছে। দলটি মনে করছে, স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা কোনো বাধা সৃষ্টি করা হলে তা নাগরিকদের সমানাধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
ফলে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত ‘থাকছে না’—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং দলীয় প্রতীক ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকার কৌশল নিয়েছে দলটি। এতে স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থনের বাস্তব চিত্রও নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
