হাসান-ইবাদত-তাসকিনের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার বিপর্যস্ত, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা স্মিথ-কেরির
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দিনেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা স্বাগতিকদের শুরুটা ভালো হলেও বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুতই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দিনের একপর্যায়ে মাত্র ৭৪ রানে চার উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া পরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে চাপ ধরে রাখে। দিনের শেষভাগে পাঁচ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রায় ১৩০ রানের ঘরে অবস্থান করছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ছিল যথেষ্ট কার্যকর। নতুন বলে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে স্বস্তিতে খেলতে দেননি। হাসানের বোলিংয়ে শুরু থেকেই ছিল গতি ও সুইংয়ের মিশ্রণ। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা বেশ কয়েকবার পরাস্ত হন। শেষ পর্যন্ত ট্রাভিস হেডকে ২২ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে প্রথম বড় সাফল্য এনে দেন হাসান। এর আগে জেক ওয়েদারাল্ডকেও ২৩ রানে সাজঘরে ফেরান তিনি।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় আঘাত আসে মার্নাস লাবুশেনকে ঘিরে। মাত্র ১ রান করে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ইবাদত হোসেনের বলে বিদায় নেন অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাটার। এরপর তাসকিন আহমেদের বলে ক্যামেরন গ্রিন ১৩ রান করে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিলে ৭৪ রানেই চার উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এই পর্যায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত বাংলাদেশের হাতেই চলে আসে।
তবে এখান থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। অভিজ্ঞ স্মিথ উইকেটে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ক্যারির সঙ্গে তার জুটি অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয় কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে। বাংলাদেশের জন্য হতাশার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় স্মিথের একটি ক্যাচের সুযোগ হাতছাড়া হওয়া। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্মিথ ধীরে ধীরে নিজের ইনিংস বড় করার দিকে এগিয়ে যান।
সরবরাহ করা স্কোরকার্ড অনুযায়ী, ৩৬.৩ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৩২ রান, পাঁচ উইকেট। স্টিভেন স্মিথ ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছেন। তার সঙ্গে উইকেটে থাকা বিউ ওয়েবস্টারও অপরাজিত। অন্যদিকে অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রান করে আউট হয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন দুটি করে এবং তাসকিন আহমেদ একটি উইকেট নিয়েছেন।
প্রথম দিনের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে পেসারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে শুরুতেই নতুন বল কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সফল হয়েছে। হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন গতি ও বাউন্স ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রেখেছেন। তাসকিনও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে আক্রমণকে কার্যকর রেখেছেন। প্রথম দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, মাঠের পারফরম্যান্সে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।
তবে বাংলাদেশের জন্য সতর্কতার জায়গাও রয়েছে। স্মিথের উইকেটটি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিন শেষে তিনি সেট হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দ্রুত তার উইকেট নিতে না পারলে অস্ট্রেলিয়া বড় সংগ্রহের পথে যেতে পারে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডারও যথেষ্ট প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। ফলে দিনের শেষভাগে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারলে বাংলাদেশের দারুণ সূচনা কিছুটা ম্লান হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। স্মিথের উপস্থিতি এবং হাতে থাকা ব্যাটিং গভীরতা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু পাঁচ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিন শেষ করার অর্থ হলো দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশ যদি আরও দুটি দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ রানের নিচে আটকে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শুরুতেই তাদের টপ অর্ডারকে নাড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পেসাররা দেখিয়েছেন, এই সিরিজে তারা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই আসেনি। এখন দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টাই হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড়—স্মিথকে দ্রুত ফেরাতে পারলে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে বড় চাপে ফেলতে পারবে, আর স্মিথ-ক্যারির মতো জুটি আরও সময় পেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও স্বাগতিকদের দিকে ফিরতে পারে।
