নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুটা মোটেও স্বস্তিদায়ক হলো না বাংলাদেশের। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দিনের খেলা চলাকালে ৪৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৩৩ রান। হাতে মাত্র চার উইকেট থাকায় প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেও সেই সিদ্ধান্তকে কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। ওপেনার তানজিদ হাসান মাত্র ৮ বল মোকাবিলা করে কোনো রান না করেই জ্যাকবসের শিকার হন। এরপর শাদমান ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ৪৭ বলে ৩১ রান করেন, যাতে ছিল চারটি চার। তবে স্পিনার রকিচ্চিওলির বলে আউট হয়ে ফিরে গেলে ভেঙে যায় সেই জুটি।
অভিজ্ঞ মুমিনুল হকও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৫৮ বল খেলে ১৬ রান করে তিনিও রকিচ্চিওলির শিকারে পরিণত হন। ব্যাট হাতে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। তিনি ৫৩ বলে ৩৭ রান করেন। ইনিংসে ছিল সাতটি দৃষ্টিনন্দন চার। কিন্তু ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে না পারায় বাংলাদেশ আরও চাপে পড়ে।
এরপর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। মাত্র চার বল খেলে কোনো রান না করেই বিদায় নেন তিনি। ফলে মধ্যক্রমে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। উইকেটরক্ষক ব্যাটার আমিতে হাসান ধৈর্যের পরিচয় দিলেও রান তুলতে ভুগেছেন। ৬১ বলে ১৫ রান করে ক্রোনের বলে আউট হন তিনি।
দিনের শেষভাগে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও সৌম্য সরকার। মিরাজ ২১ বলে ১৬ এবং সৌম্য ১৩ বলে ১০ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। তাদের জুটির ওপরই এখন নির্ভর করছে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করার মতো সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারবে।
অস্ট্রেলিয়া একাদশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন স্পিনার রকিচ্চিওলি। তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। এছাড়া জ্যাকবস, থম্পসন ও ক্রোন একটি করে উইকেট তুলে নেন। স্বাগতিক বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে রাখেন। বিশেষ করে নতুন বলে গতি এবং পরে স্পিনের মিশেলে তারা সফরকারীদের বড় জুটি গড়তে দেননি।
বাংলাদেশের ইনিংসে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮টি বাউন্ডারি এসেছে, যার মধ্যে ১৭টিই চার। রান তোলার গতি ছিল ধীর। ৪৪ ওভারে রানরেট মাত্র ৩.০২, যা টেস্ট প্রস্তুতি ম্যাচের প্রেক্ষাপটে ব্যাটিং সংগ্রামেরই প্রতিফলন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় ইনিংস গড়ার সুযোগও তৈরি হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আসন্ন টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে এই প্রস্তুতি ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রথম দিনের ব্যাটিং পারফরম্যান্স দলটির টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারের দুর্বলতাই সামনে এনে দিয়েছে। দ্বিতীয় দিনে মিরাজ ও সৌম্য কতটা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেন এবং শেষের ব্যাটাররা কতটা অবদান রাখতে পারেন, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে স্বাগতিকরা দ্রুত বাংলাদেশকে অলআউট করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে। প্রথম দিনের চিত্র বিবেচনায় প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই কঠিন চাপে পড়ে গেছে।
