loader image
শিরোনাম

রোহিঙ্গা সংকটে তহবিলের ৯০ শতাংশই জাতিসংঘের কাছে, স্থানীয় এনজিও পায় মাত্র ২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

রোহিঙ্গা সংকট দশম বছরে প্রবেশ করলেও মানবিক সহায়তার তহবিল বণ্টনে স্থানীয় এনজিওগুলো বড় ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ দশমিক ৬ লাখ মানুষের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৮৭ দশমিক ৯৬ শতাংশই রয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর কাছে। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কাছে রয়েছে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং জাতীয় এনজিওগুলোর কাছে ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য কোনো তহবিল বরাদ্দ নেই।

মঙ্গলবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে ‘রোহিঙ্গা সাড়াদান কার্যক্রমের তহবিল কোথায় যাচ্ছে?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম ও কোস্ট ফাউন্ডেশন। বক্তারা মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় অংশীজনদের অর্থবহ অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দাবি জানান।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য বরাদ্দ তহবিলের ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পাচ্ছে আন্তর্জাতিক এনজিও, ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ জাতীয় এনজিও এবং মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ যাচ্ছে স্থানীয় এনজিওগুলোর কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেত্রেও ৯২ শতাংশ পেয়েছে জাতিসংঘের সংস্থা এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক এনজিও।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব বহন করছে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী। পরিবেশ, কৃষিজমি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অথচ স্থানীয় জনগণ ও সংগঠনগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পাচ্ছে না।

স্থানীয় এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বক্তারা মানবিক তহবিলের অন্তত ২৫ শতাংশ সরাসরি স্থানীয় এনজিওগুলোর কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্থাগুলোকে যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় আবেদনকারী অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবি করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সংকটের টেকসই সমাধানের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আসিয়ান, চীনসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top