ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক শিক্ষক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক এবং ডিপিএড পাইলটিং কর্মসূচির মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনেস্কো বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বিবি হাজ্জাজ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ শাহিনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ শাহানা সারমিন এবং ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার মিজ শিরীন আক্তার। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ধারাবাহিক পেশাগত বিকাশ নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার শিক্ষণ-শেখার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্ভাবনভিত্তিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, এ প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি জাতীয় আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের দায়িত্বশীল ও কার্যকর প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালায় উপস্থাপিত আইসিটি-এআই কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক বিষয়ক গবেষণায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সাক্ষরতা, প্রযুক্তির শিক্ষণগত ব্যবহার, নৈতিক ও দায়িত্বশীল এআই প্রয়োগ এবং পেশাগত অনুশীলনের বিভিন্ন দক্ষতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) পাইলটিং কর্মসূচির মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে কর্মসূচির কার্যকারিতা, অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কৌশলগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদন ও আলোচকদের বক্তব্যে ভবিষ্যতে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা ও পেশাগত প্রস্তুতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচনায় বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই শুধু সাধারণ স্নাতক ডিগ্রির পরিবর্তে শিক্ষকতা পেশার উপযোগী প্রশিক্ষণ ও পেশাগত যোগ্যতাকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথিরা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ ভবিষ্যতের শিক্ষক শিক্ষা নীতি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক করতে সহায়তা করবে।
ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, ভবিষ্যতের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ডিজিটাল ও এআই-সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি শিক্ষক উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের চলমান উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ ক্ষেত্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির সঙ্গে ইউনেস্কোর অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষা গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁরা গবেষণার ফলাফল ও সুপারিশ নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে এসব সুপারিশের কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনার সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হলো। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, গবেষণার ফলাফল ও সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দক্ষ, প্রযুক্তিসক্ষম ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।
