loader image
শিরোনাম

উত্তরবঙ্গে কৃষিঋণে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল

বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সৃষ্টির লক্ষ্যে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় কৃষি উৎপাদন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির মতো কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ-১ থেকে গত ৬ জুলাই একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলো এ তহবিলের আওতায় থাকবে। উত্তরবঙ্গের কৃষিকে শুধু উৎপাদনকেন্দ্রিক না রেখে উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি পর্যন্ত একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমানোর পাশাপাশি কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তহবিলের অর্থের ১৫ শতাংশ কৃষি উৎপাদন খাতে, ৩৫ শতাংশ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে, ৩৫ শতাংশ কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে এবং অবশিষ্ট ১৫ শতাংশ কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানি এবং রপ্তানির প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে শস্য, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি এবং আয় সৃষ্টি করে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া যাবে। অন্যদিকে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার, বীজ সংরক্ষণাগার, গুদাম, খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার এবং শীতল সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো উদ্যোগেও এ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নেও অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন খাতে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিজাত ও কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও সর্বোচ্চ ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যাবে। কৃষিপণ্য রপ্তানি ও রপ্তানির প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় ব্যাংক নির্ধারিত সীমার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে পারবে।

এ তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় অর্থায়নের ক্ষেত্রেও গ্রাহকের কাছ থেকে নির্ধারিত সীমার বেশি মুনাফা নেওয়া যাবে না।

ঋণের মেয়াদও খাতভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন খাতে ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১৮ মাস। অন্যান্য খাতে ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ মাস। এসব ঋণের ক্ষেত্রে খাত ও প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধার অভাবে কৃষকরা অনেক সময় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে মৌসুমি সময়ে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে অনেক কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে যায়। নতুন তহবিলের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা গেলে এ সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত ও বিদেশে রপ্তানি করা গেলে কৃষকের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও লাভবান হবেন। এতে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান আরও বাড়বে এবং উৎপাদন, শিল্প ও বাণিজ্যের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ তহবিলের মেয়াদ সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর। ঋণ বিতরণ ও অর্থের ব্যবহার যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা তদারকির জন্য অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মে তথ্য সংরক্ষণ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে তহবিলের অর্থের ব্যবহারও যাচাই করতে পারবে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top