loader image
শিরোনাম

ডিএসইর সূচক বাড়ল ৮ পয়েন্ট, অবস্থান ৫৮৯৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) লেনদেন শেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। দিনের লেনদেনে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল সতর্কতা। বাজারে নির্বাচিত কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ থাকায় দিন শেষে সূচক ইতিবাচক অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ করেছে।

মঙ্গলবারের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনের শুরু থেকেই বাজারে শেয়ার কেনাবেচায় কিছুটা সক্রিয় ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সূচকে ওঠানামা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ক্রয়চাপ বিক্রির চাপকে ছাড়িয়ে যায়। ফলে আগের কার্যদিবসের তুলনায় ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থার পরিবেশ তৈরি হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে বাজারে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে বাছাই করে বিনিয়োগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবারের বাজারে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং অন্যান্য কয়েকটি খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল। অন্যদিকে কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিক্রির চাপ থাকায় সূচকের উত্থান সীমিত ছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ তৈরি হওয়ায় সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও শুধু একদিনের সূচক বৃদ্ধি দিয়ে বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা বিচার করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিকভাবে লেনদেন বৃদ্ধি, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অন্যতম উদ্বেগ হলো কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ আয়-সম্ভাবনা। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, লভ্যাংশ প্রদান এবং করপোরেট সুশাসনের বিষয়গুলো বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির মৌলভিত্তি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে কারসাজি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা তৈরি হবে।

মঙ্গলবারের লেনদেনে ডিএসইএক্সের ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি তাই বাজারে বিনিয়োগকারীদের সীমিত আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন অনেকে। তবে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা টেকসই হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। পরবর্তী কয়েকটি কার্যদিবসে সূচকের অবস্থান, লেনদেনের পরিমাণ এবং শেয়ারদরের ওঠানামা থেকেই বাজারের প্রকৃত গতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়ে টানা বা ধারাবাহিকভাবে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top