নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কার্যক্রম স্থগিত থাকা অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে তার ব্যাংকিং লেনদেনের ওপর বিশেষ নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে বিএফআইইউ। নির্দেশনায় চৈতালী চক্রবর্তীর নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বিএফআইইউর নির্দেশনা অনুযায়ী, চৈতালী চক্রবর্তীর ৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের যেকোনো লেনদেনের তথ্য সংস্থাটিকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিএফআইইউর পাঠানো চিঠিতে চৈতালী চক্রবর্তীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার পিতার নাম অজয় কুমার চক্রবর্তী, মাতার নাম জবা রাণী চক্রবর্তী (বিগচী) এবং স্বামীর নাম বাসুদেব ও নিগমাশিষ বাগচী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনার ফলে চৈতালী চক্রবর্তীর নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোতে স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি তার আর্থিক কর্মকাণ্ড আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে। বিশেষ করে ৫ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তা বিএফআইইউকে অবহিত করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত ও তা প্রতিরোধে বিএফআইইউ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
চৈতালী চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের আর্থিক নজরদারি আরোপ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগ বা ব্যাংক হিসাব জব্দের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিএফআইইউর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বিএফআইইউর নির্দেশনা অনুযায়ী হিসাব ও লেনদেনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত সীমার বেশি লেনদেনের তথ্য যথাযথভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারিমূলক ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া তার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটিকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই মধ্যে তার পরিচয় জানার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
চৈতালী চক্রবর্তীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই বাংলাদেশ আমার। আদি বাংলাদেশও আমার। আপনারা বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য চেয়ে আমরা সনাতনীদের জন্য আলাদা একটি প্রদেশ করব। একসময় কিন্তু এরকমই হবে, সনাতনীদের আলাদা একটি প্রদেশ হয়ে যাবে। অতীতে যেরকম আমরা হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ মিলে একত্রিত থাকতাম, এখনো আমরা থাকতে চাই।’
দাঙ্গা লাগে এমন কিছু না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মন্দিরে আপনাকে নিমন্ত্রণ আমরা করলাম, আপনারা ভালো লাগলে আসবেন, না লাগলে আসবেন না; কিন্তু আমার মন্দিরে আমি কোথায় আমার দেবতাকে কতটুকু রাখবো, তার কৈফত আপনাকে আমি দেব না। আপনার হরির মত হরিদাস পালকে আমরা গণনা করি না। অবএব, এমন কিছু করবেন না, যাতে হিন্দু-মুসলিমের দাঙ্গা বাধে। আপনারা দুইটা মারবেন, আমরা একটা মারব। কিন্তু আমরাও মারব।’
কে এই চৈতালী?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চৈতালী চক্রবর্তী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের একজন সদস্য। সংগঠনটির ওয়েবসাইটে তার নাম সার্চ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি ২০১৬ সালের ২২ মে আইনজীবীদের এ সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করেন। তার সদস্য আইডি নং ৬১০১। নয়া পল্টনের ৮৯/এ নং বিলিংয়ের ৫ তলায় তার চেম্বার রয়েছে।
