ডিএসইতে সূচক কমেছে ১০ পয়েন্ট, লেনদেন ১,২১০ কোটি টাকা\
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস সোমবার (৩ আগস্ট) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে। একই সঙ্গে আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও দিনের শেষ দিকে বিক্রির চাপ বাড়ায় সূচকগুলো নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়। ফলে দিন শেষে প্রধান সূচকসহ ডিএসইর সবকটি মূল্যসূচকই কমেছে।
দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ দশমিক ০৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৮৯৫ দশমিক ০৯ পয়েন্টে।
অন্যদিকে, ডিএসইর শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস ৬ দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ৯ দশমিক ১৬ পয়েন্ট। দিন শেষে এ সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০৪ পয়েন্টে।
কমেছে লেনদেন
সূচকের পাশাপাশি এদিন ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেনও কিছুটা কমেছে। দিন শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে মোট ১ হাজার ২১০ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
এর আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। শতাংশের হিসাবে লেনদেন কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
লেনদেনের এই পতন বাজারে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সূচকের পতনের সঙ্গে লেনদেন কমে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের তুলনায় বিক্রেতাদের প্রভাব কিছুটা বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে
সোমবার ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে দর কমেছে ১৬৯টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৫৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত ছিল।
অর্থাৎ দিন শেষে দরপতনের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দরবৃদ্ধির তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি ছিল। মোট লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের হিসাবে প্রায় ৪৩ শতাংশের দর বেড়েছে, বিপরীতে প্রায় ৪৩ শতাংশের দর কমেছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজারের এ চিত্র থেকে দেখা যায়, দিনের লেনদেনে একদিকে যেমন বেশ কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ ছিল, তেমনি অন্যদিকে বড়সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারে বিক্রির চাপও ছিল। এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক মূল্যসূচকে।
বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা
সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকলেও সূচকের ওঠানামায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে। সোমবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হলেও বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা ছিল নেতিবাচক।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সূচকের পতন এবং লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক দিনের লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পরবর্তী কয়েক কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেনের গতি কোন দিকে যায়, সেটিই বাজারের প্রকৃত প্রবণতা নির্ধারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখলেও বাজারের সামগ্রিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের কৌশল নিয়েছেন। ফলে কোনো কোনো খাতে লেনদেন থাকলেও সব মিলিয়ে সূচকে শক্তিশালী উত্থান দেখা যায়নি।
সব মিলিয়ে সোমবারের লেনদেনে ডিএসইতে কিছুটা বিক্রিচাপ ছিল। এর ফলে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স, ডিএসইএস এবং ডিএস-৩০—তিন সূচকই কমেছে। পাশাপাশি আগের দিনের তুলনায় লেনদেনও কমেছে। তবে ১ হাজার ২১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হওয়ায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ একেবারে কমে যায়নি।
সপ্তাহের বাকি কার্যদিবসগুলোতে সূচক ও লেনদেন কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের। বিশেষ করে বাজারে ক্রয়চাপ বাড়ে কি না এবং দরপতনের ধারায় থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে আবারও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফিরে আসে কি না—তা পরবর্তী কার্যদিবসের বাজার পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
