নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ৩০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে তাঁদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি। সোমবার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিএফআইইউর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মোজাফফর হোসেন, তাঁর স্ত্রী নাইমা হোসেন, ছেলে মো. নাদির হোসেন এবং ভাই মো. মোদাচ্ছের রহমানের নামে অথবা তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়ে থাকলে সেসব হিসাবের লেনদেন আগামী ৩০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর হিসাব খোলার ফর্ম, ট্রানজেকশন প্রোফাইল (টিপি), গ্রাহকের তথ্য বা কেওয়াইসি এবং হালনাগাদ হিসাব বিবরণী চেয়েছে বিএফআইইউ। এসব তথ্য আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে পাঠানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ওই বিশ্লেষণে পাওয়া কয়েকটি সন্দেহজনক মুঠোফোন নম্বর শনাক্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। পরে ওই নম্বরগুলোর সূত্র ধরে পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ৭৭ বছর বয়সী মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড ঘটে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে। সেদিন একদল সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। এর আগের দিন স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ মেটাতে তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বই ও নথিতে ওই ঘটনায় মোজাফফর হোসেনের সম্পৃক্ততার উল্লেখ রয়েছে। এসব বর্ণনা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে উপস্থিত সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন এবং জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তাঁর কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর হোসেন পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে তাঁকে গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণার কথাও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উঠে এসেছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় পর তাঁর গ্রেপ্তার এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার বিএফআইইউর নির্দেশ নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় এনেছে। ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর লেনদেন, গ্রাহক পরিচিতি ও আর্থিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।
বিএফআইইউর এ নির্দেশের ফলে মোজাফফর হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা অন্য কোনো ধরনের লেনদেন আপাতত বন্ধ থাকবে।
