নিজস্ব প্রতিবেদক
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দেবেন।
ড. নাজনীন আহমেদ অর্থনৈতিক গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) বাংলাদেশে দুই বছর কান্ট্রি ইকোনমিস্ট হিসেবে এবং পরবর্তী তিন বছর নিউইয়র্কে ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যুরোর পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইউএনডিপিতে যোগ দেওয়ার আগে ড. নাজনীন আহমেদ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এ দীর্ঘ ২৫ বছর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে গবেষণা সহযোগী হিসেবে বিআইডিএসে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণা পদে দায়িত্ব পালন করে গবেষণা পরিচালক পদে উন্নীত হন।
ড. নাজনীনের গবেষণা ও নীতি-সংশ্লিষ্ট আগ্রহের ক্ষেত্র বিস্তৃত। সামষ্টিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থান, সুশাসন, লিঙ্গসমতা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি গবেষণা করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গবেষণা ও প্রকাশনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি পিয়ার-রিভিউড জার্নালে গবেষণা নিবন্ধ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রকাশনা সংস্থার বইয়ে অধ্যায় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা গবেষণা প্রতিবেদনে তার কাজ প্রকাশিত হয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন ড. নাজনীন।
শিক্ষাজীবনে তিনি নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি মর্যাদাপূর্ণ চেভেনিং স্কলারও ছিলেন।
সিপিডি জানিয়েছে, গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণে ড. নাজনীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং জননীতি প্রণয়ন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠানটির প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
