loader image
শিরোনাম

বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলা কিউআর ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপের পর এর মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ও সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে, গত সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারটি লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনে প্রতিদিন গড়ে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকার কেনাকাটা হয়েছে। এর ফলে বাংলা কিউআরের দৈনিক লেনদেন প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য একীভূত কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক নিজের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমে আসে এবং লেনদেন দ্রুত ও সহজ হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলা কিউআর ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপের পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক উভয়ের মধ্যেই এর ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে। আগে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর কোড দেখা গেলেও একীভূত ব্যবস্থার কারণে এখন একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে একাধিক সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেন গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে এবং গ্রাহকদের কাছেও ডিজিটাল অর্থ পরিশোধের সুবিধা বেড়েছে।

গত সপ্তাহের পরিসংখ্যান বাংলা কিউআরের ব্যবহার বৃদ্ধির প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ ৩ হাজার লেনদেনের অর্থমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, এর মাধ্যমে কেনাকাটার মোট অর্থমূল্যও দ্রুত বাড়ছে। দৈনিক ১০০ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করা বাংলা কিউআরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত কিউআরভিত্তিক অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালু হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সময় ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় ব্যবসায়িক হিসাব সংরক্ষণও সহজ হয়।

বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ার ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা বা সীমিত ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহারকারী অনেক ব্যবসায়ী ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ড আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে।

তবে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে হলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। লেনদেনের নিরাপত্তা, দ্রুত নিষ্পত্তি, সহজ ব্যবহার এবং প্রতারণা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলা কিউআরের দৈনিক লেনদেন ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বাধ্যতামূলক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সুবিধা ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে বাংলা কিউআর দেশের দৈনন্দিন কেনাকাটা ও অর্থ পরিশোধের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। এতে নগদনির্ভরতা কমিয়ে একটি আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top