loader image
শিরোনাম

সূচকের পতনে ডিএসইতে লেনদেন শেষ, কমেছে ২৩১ কোম্পানির শেয়ারদর

দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন, ডিএসইএক্স কমেছে ৬ দশমিক ২৫ পয়েন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে বুধবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষ হয়েছে। দিনভর লেনদেনে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্সসহ সবকটি সূচকই নিম্নমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে থাকলেও বাজারে বিক্রির চাপ ছিল বেশি।

ডিএসইর বুধবারের সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, প্রধান ডিএসইএক্স সূচক ৫ হাজার ৮৯৭ দশমিক ২৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। আগের দিনের তুলনায় সূচকটি ৬ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১০৬ শতাংশ কমেছে।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও পতন দেখা গেছে। ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৫৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৮০ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএস৩০ সূচক ৪ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৮৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ২০০ দশমিক ৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বুধবার ডিএসইতে মোট ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭৪টি লেনদেন হয়েছে। দিনভর মোট ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৫টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭৩৭ কোটি ৩০ লাখ ৬ হাজার টাকা।

বাজারে দরপতনের চিত্রও ছিল স্পষ্ট। বুধবার মোট ১১৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ২৩১টির। আর ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দর বাড়ার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে, যা বাজারে বিক্রির চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের লেনদেনে মোট লেনদেনের পরিমাণ ১০ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের চিত্র পাওয়া গেছে। তবে লেনদেনের বড় অংশে বিক্রির চাপ থাকায় সেই সক্রিয়তা সূচককে ঊর্ধ্বমুখী করতে পারেনি।

বাজারের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, দিনের শুরু থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি ছিল। ফলে অধিকাংশ কোম্পানির দর কমার পাশাপাশি প্রধান সূচকগুলোও নেতিবাচক অবস্থানে দিন শেষ করেছে।

বুধবারের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ১০ শতাংশের কিছু বেশি কমেছে। একইভাবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস এবং নির্বাচিত বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস৩০ও পতনের মুখে পড়েছে।

বাজার বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অবশ্য শুধু এক দিনের সূচক পতন দিয়ে পুঁজিবাজারের সামগ্রিক প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। তবে বুধবারের লেনদেনে দর কমা কোম্পানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকা এবং সবকটি প্রধান সূচকের পতন বাজারে সাময়িকভাবে নেতিবাচক মনোভাবের উপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে ১০ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেন এবং ৩৬ কোটির বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হওয়া থেকে বোঝা যায়, পতনের মধ্যেও বাজারে লেনদেনের গতি সক্রিয় ছিল। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে পরবর্তী কার্যদিবসে বাজারে বিক্রির চাপ কমে আসে কি না এবং প্রধান সূচকগুলো আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে পারে কি না, সেদিকে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top