অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্য রাখেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকালে রাজধানীর গণভবনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মাদ ইউনূস সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা, মানুষের আত্মত্যাগ, প্রত্যাশা ও গণআকাঙ্ক্ষার ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্মৃতি জাদুঘরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা, আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ, আলোকচিত্র, পোস্টার, ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য স্মারক জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মৃতিও যথাযথভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি জাতির ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বিভিন্ন প্রজন্মের সংগ্রাম, ত্যাগ ও গণআকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়েও ইতিহাস নির্মিত হয়। সেই ইতিহাসকে প্রামাণ্য উপকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ তৈরি করাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি আহতদের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের ভূমিকার কথাও স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও মানুষের প্রত্যাশাকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘর উদ্বোধনের পর এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংরক্ষিত বিভিন্ন নিদর্শন ও উপকরণ পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
সম্মানিত অতিথি ড. মুহাম্মাদ ইউনূসও জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক ও ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে জাদুঘরের সংগ্রহশালা আরও সমৃদ্ধ করা হবে। গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও জাদুঘরটি উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর কেবল একটি প্রদর্শনীর স্থান নয়; এটি দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস, গণআকাঙ্ক্ষা ও মানুষের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বিবেচিত হবে।
