loader image
শিরোনাম

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। ব্যাংক তিনটি হলো অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল)। নিয়োগ বাতিল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বেসিক ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. কামরুজ্জামান খান এবং বিডিবিএলের এমডি ও সিইও মো. জসীম উদ্দিন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে তিন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ফলে দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল হলো।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে নতুন করে এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে মো. কামরুজ্জামান খান এবং বিডিবিএলের এমডি হিসেবে মো. জসীম উদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনজনকেই নির্ধারিত মেয়াদের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এবার তাঁদের নিয়োগ বাতিল করা হলো।

এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের তৎকালীন এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছিল। এর প্রায় এক মাস পর নতুন করে এসব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে একই ব্যাংকগুলোর কয়েকটিতে আবারও নেতৃত্বে পরিবর্তন আসছে।

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম দীর্ঘদিনের ব্যাংকার। তিনি ১৯৮৮ সালে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে ব্যাংকটির এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন।

বিডিবিএলের এমডি মো. জসীম উদ্দিনও দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা। তিনি ১৯৮৮ সালে জনতা ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে জনতা ব্যাংক ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি বিডিবিএলের এমডি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বেসিক ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. কামরুজ্জামান খানও ২০২৪ সালের অক্টোবরের নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটির নেতৃত্বে আসেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি, ঋণ আদায়, সুশাসন ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর নানা উদ্যোগের মধ্যেই তিনি ব্যাংকটির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তিন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে ঠিক কী কারণে তাঁদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে, তা নিয়ে ব্যাংক খাতে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে অগ্রণী, বেসিক ও বিডিবিএলের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, দুর্বল সুশাসন, ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং পরিচালন দক্ষতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর নিয়োগ বাতিলের মধ্য দিয়ে ব্যাংক খাতে সরকারের নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ আবারও সামনে এলো। এখন এসব ব্যাংকে নতুন নেতৃত্ব কে পাচ্ছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ও পরিচালনগত দুর্বলতা কতটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top