নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে হিসাব জব্দের পরবর্তী কার্যক্রমে রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। কোনো হিসাব জব্দের আদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবের স্থিতি এবং ওই হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য হিসাবের তথ্য অবিলম্বে বিএফআইইউকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
বিএফআইইউর জারি করা ‘বিএফআইইউ সার্কুলার লেটার নং-৫’-এ দেশের সব রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা চিঠিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর আলোকে প্রণীত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর ২৬(৮) বিধির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। এ বিধির অনুসরণে বিএফআইইউ কর্তৃক কোনো হিসাবের স্থগিতকরণ আদেশ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ওই হিসাবের স্থিতি এবং ওই হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য হিসাবের তথ্যাদি অবিলম্বে বিএফআইইউকে অবহিত করতে হবে।
অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যাংক বা আর্থিক হিসাব জব্দ বা স্থগিতের নির্দেশ এলে শুধু ওই নির্দিষ্ট হিসাবের তথ্য সংরক্ষণ করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। একই গ্রাহক বা সংশ্লিষ্টতার আওতায় থাকা অন্যান্য হিসাবের তথ্যও দ্রুত বিএফআইইউকে জানাতে হবে। এর ফলে সন্দেহজনক অর্থের গতিপথ, সংশ্লিষ্ট হিসাব এবং সম্ভাব্য আর্থিক সংযোগ শনাক্তে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।
বিএফআইইউর চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ২৩(১)(ঘ) ধারা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ১৫(১)(ঘ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হিসাব জব্দ বা স্থগিতের পরবর্তী পর্যায়ে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট দায়িত্ব তৈরি হলো। বিশেষ করে একটি হিসাবের সঙ্গে অন্য কোনো হিসাবের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক থাকলে সেসব তথ্য দ্রুত বিএফআইইউর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে শুধু সন্দেহজনক হিসাব শনাক্ত বা জব্দ করাই যথেষ্ট নয়; ওই হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক নেটওয়ার্কও চিহ্নিত করা জরুরি। বিএফআইইউর এই নির্দেশনা সেই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অর্থপাচার বা অবৈধ অর্থের লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক হিসাব শনাক্তে সহায়ক হতে পারে।
বিএফআইইউর সার্কুলার লেটারে সংশ্লিষ্ট সব রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে পরিপালনের জন্য বলা হয়েছে।
