loader image
শিরোনাম

হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদেশি ব্যয় পরিশোধ সহজ হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক:


দেশের হাইটেক পার্কে (এইচটিপি) পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন এসব প্রতিষ্ঠানের রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান, কারিগরি সহায়তা ফি এবং অন্যান্য বৈধ ব্যয় মেটাতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) আগাম অনুমোদন নিতে হবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এফইপিডি-১ পরিপত্র লেটার নং-১৫ জারি করা হয়েছে। দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়ের সমতুল্য কার্যালয়ে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনার ফলে হাইটেক পার্কে পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলো সরাসরি অর্থ পাঠানোর সুযোগ পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৬ মে জারি করা এফই সার্কুলার নং-২১-এর ১০ নম্বর অনুচ্ছেদে হাইটেক পার্কের ‘এ’ শ্রেণির শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা ফি বাবদ বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশনায় অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদন ছাড়াই এ ধরনের অর্থ পাঠাতে পারত।

তবে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা ছিল। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে আমদানি করা যন্ত্রপাতির মূল্যের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ এবং চলমান প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়কর বিবরণীতে ঘোষিত আগের বছরের বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত এ ধরনের অর্থ পাঠানো যেত।

এবার বৈদেশিক অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আওতায় হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান, কারিগরি সহায়তা ফি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিপরীতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারবে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো।

তবে অর্থ পাঠানোর আগে ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় আয় বা বৈদেশিক মুদ্রার বৈধ উৎস রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর যথাযথভাবে কর্তন ও পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তাও যাচাই করতে হবে।

নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা ফি পাঠাতে হলে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট অনুমোদন নিতে হবে। একইভাবে এ ধরনের ব্যয়ের বাইরে অন্যান্য বৈধ ও অনুরূপ ব্যয়ের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর ক্ষেত্রেও পরিমাণ নির্বিশেষে বিএইচটিপিএর আগাম নির্দিষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর ক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ৩(৪) ধারা এবং গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদনও দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে হাইটেক পার্কে পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক ব্যয় পরিশোধে সময় ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুবিধার মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত বৈদেশিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top