নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমে বড় কোনো পরিবর্তন নয়, বরং আগের প্রচলিত ব্যবস্থার ধারাবাহিকতাই ফিরছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে লটারির মাধ্যমে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি নতুন কোনো পদ্ধতি নয়। এর আগেও সরকারি বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে ভর্তি নীতিমালায় পরিবর্তন এনে কোথাও কোথাও পরীক্ষা বা অন্যান্য প্রক্রিয়া যুক্ত করা হয়েছিল। এখন আবার শিশুদের ওপর ভর্তি পরীক্ষার চাপ কমাতে লটারির ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলে আসছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরের নামকরা বিদ্যালয়গুলোতে সন্তানকে ভর্তি করাতে অনেক অভিভাবক আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেন। অনেক ক্ষেত্রে ছোট শিশুদের কোচিং, গাইড বই ও ভর্তি প্রস্তুতির চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হওয়া উচিত আনন্দময় পরিবেশে, কোনো ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে নয়।
নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত বয়সের শিশুদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়ার পর লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে জনপ্রিয় বিদ্যালয়গুলোতে আসনসংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় লটারি পদ্ধতিকে একটি নিরপেক্ষ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে লটারি পদ্ধতি নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে রয়েছে নানা মত। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে এবং সব শ্রেণির পরিবার সমান সুযোগ পাবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিদ্যালয়ের মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুর শেখার আগ্রহ তৈরি করা। এই বয়সে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের চেয়ে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং আনন্দময় পাঠদান বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যকর করতে হলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনলাইন আবেদন, ডিজিটাল লটারি এবং ফলাফল প্রকাশে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করলে অভিভাবকদের আস্থা বাড়বে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়; বরং শিশুদের চাপমুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগের একটি ব্যবস্থারই পুনঃপ্রবর্তন। এখন চ্যালেঞ্জ হলো—এই প্রক্রিয়াকে কতটা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
