নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রতি সদস্য দেশগুলোর আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে খলিলুর রহমান তাঁর দায়িত্ব ও ৮১তম অধিবেশন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হবে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতিসংঘকে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশগুলো আবারও আস্থা ও উৎসাহের সঙ্গে ‘জাতিসংঘের পক্ষে’ ভোট দিতে পারে।
খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘকে ঘিরে আস্থার সংকট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গভীর সংস্কারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। শুধু বর্তমান সময়ের প্রয়োজন মেটানো নয়, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি করাই হবে সংস্কারের মূল লক্ষ্য।
দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই তাঁর এই বক্তব্য ৮১তম অধিবেশনে জাতিসংঘের কার্যকারিতা, সংস্কার ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নানা সংকট, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার ঘাটতির সময়ে তাঁর নেতৃত্বে সাধারণ পরিষদ কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব। এ পদে থেকে তিনি ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন পরিচালনা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা এগিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বহুপাক্ষিক আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে তাঁর বক্তব্যে সংস্কার, আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী জাতিসংঘ গঠনের যে প্রত্যয় উঠে এসেছে, তা ৮১তম অধিবেশনের সম্ভাব্য অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এখন তাঁর নেতৃত্বে সাধারণ পরিষদ সদস্য দেশগুলোর মতপার্থক্য কতটা দূর করতে পারে এবং জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা কতটা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সেটিই হবে মূল প্রত্যাশার জায়গা।
