নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ করে দেওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজ ব্যক্তিগত কর মওকুফ করেছেন—এমন প্রচারণারও কোনো ভিত্তি নেই বলে জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই সামাজিক ব্যবসায় তাঁর কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অংশীদারত্ব নেই। তিনি গ্রামীণ কল্যাণের কোনো শেয়ারের মালিক নন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও চেয়ারম্যানের পদ থেকেও সরে দাঁড়ান।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় দুই বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকুফ করে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যক্তিগত করও মওকুফ করেছেন—এমন তথ্যও বিভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে। তবে বাস্তবে তিনি কোনো কর মওকুফ করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়। ওই সময় আরোপিত করের দাবি চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই এগিয়ে যায় এবং নতুন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি পুনর্বিন্যাস করা হয়।
একাধিক শুনানি ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ হাইকোর্ট এ মামলায় রায় দিয়েছেন। ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফের যে প্রচারণা চালানো হয়েছিল, সেটি যে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—তা স্পষ্ট হয়েছে।
তবে হাইকোর্টের রায়ের পরও বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে বলে জানানো হয়েছে।
ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত বিরোধটি এখন উচ্চতর আদালতে গড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি ড. ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে কোনো কর মওকুফ করেছেন কি না—এমন অভিযোগের সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের প্রাতিষ্ঠানিক কর বিরোধকে এক করে দেখানোর সুযোগ নেই বলেও বিবৃতিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
