হেয়ারকাটের ফাঁদ থেকে মুক্তি পেলো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যক্তিগত (অপ্রাতিষ্ঠানিক) মেয়াদি আমানত ও ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক আমানতের মুনাফা হার পুনর্নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের স্থিতি পুনঃহিসাবের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং মুনাফা সমন্বয়সংক্রান্ত বাস্তব জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সামগ্রিক ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে ১৪ আগস্ট ২০২৬ ও ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠানো আগের চিঠির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার, ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং মুনাফা সমন্বয়সংক্রান্ত বাস্তব জটিলতা বিবেচনায় ‘হেয়ারকাট’ সংক্রান্ত নির্দেশনা পুনর্বিবেচনাপূর্বক নির্ধারিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যক্তিগত ও ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক আমানতের মুনাফা হিসাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত (অপ্রাতিষ্ঠানিক) মেয়াদি আমানত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক আমানতের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য পূর্বে নির্ধারিত বার্ষিক ৮ শতাংশ হারে মুনাফা হিসাব করা হবে না। এ সময়ের জন্য ‘ইহসান’ হিসাবে ব্যাংকের তৎকালীন কার্যকর মুনাফা হারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট হিসাবের বিপরীতে স্থিতি পুনঃহিসাব করতে হবে।
অর্থাৎ, ওই সময়ের আমানতের ক্ষেত্রে এককভাবে বার্ষিক ৮ শতাংশ মুনাফা ধরে হিসাব করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সময়ে ব্যাংকে কার্যকর থাকা মুনাফা হারের ভিত্তিতে প্রত্যেক গ্রাহকের হিসাব পুনরায় নিরূপণ করতে হবে। ফলে গ্রাহকের হিসাবে পূর্বে যে পরিমাণ মুনাফা বা স্থিতি দেখানো হয়েছিল, নতুন নির্দেশনার আলোকে তা পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধিত স্থিতি নির্ধারণ করতে হবে।
এদিকে, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ব্যাংকের পুনর্নির্ধারিত মুনাফা হারই প্রযোজ্য হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ের হিসাবের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে বার্ষিক ৮ শতাংশ হার প্রয়োগ না করে ব্যাংকের পুনর্নির্ধারিত মুনাফা হার অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট আমানতকারীদের হিসাব নতুন করে সমন্বয়ের আওতায় আসবে। বিশেষ করে যেসব হিসাবের স্থিতি পূর্ববর্তী নির্ধারিত হারে মুনাফা যোগ করে নিরূপণ করা হয়েছিল, সেগুলো ব্যাংকের কার্যকর মুনাফা হারের ভিত্তিতে পুনঃহিসাব করতে হবে।
ব্যাংকিং খাতের চলমান পুনর্গঠন ও আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর প্রক্রিয়ায় এ নির্দেশনাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতের প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ এবং মুনাফা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংককে নির্ধারিত সময় ও হার অনুসরণ করে স্বচ্ছভাবে হিসাব পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শামস তিবরীজ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
