এসএসসি ফলের ভিত্তিতেই কলেজে ভর্তির সুযোগ, আবেদন হবে অনলাইনে
নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ফলে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির জন্য আলাদা কোনো ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের কলেজ ও বিষয় নির্বাচন করে অনলাইনে আবেদন করবে। আবেদনকারীদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল, পছন্দক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের আসনসংখ্যার ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে ভর্তি পরীক্ষা না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার ফলই শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নামী ও ভালো ফল করা কলেজগুলোতে আসনসংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে মেধাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভর্তি পরীক্ষা না থাকায় এসএসসি পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি পরীক্ষার চাপ কমবে। একই সঙ্গে আলাদা করে বিভিন্ন কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায় সময় ও অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজনও থাকবে না।
বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থা চালু থাকায় শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবেদন করতে হয়। একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দ অনুযায়ী একাধিক কলেজ নির্বাচন করতে পারে। পরে মেধাক্রম, পছন্দক্রম ও আসনসংখ্যার ভিত্তিতে কলেজ নির্ধারণ করা হয়।
এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ পছন্দের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পছন্দক্রমের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীকে একটি কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়। তাই আবেদন করার আগে নিজের এসএসসি ফল, কাঙ্ক্ষিত কলেজের আগের বছরের ভর্তি পরিস্থিতি এবং আসনসংখ্যা সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সাধারণ, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজের নির্ধারিত যোগ্যতা প্রযোজ্য হবে। কলেজভেদে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা ও বিভাগভিত্তিক শর্ত আলাদা হতে পারে। ফলে শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের ভর্তি নীতিমালা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ভর্তি পরীক্ষা না থাকলেও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রতিযোগিতা কমছে না। বরং ভালো কলেজগুলোতে সীমিত আসনের বিপরীতে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করায় এসএসসি ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রমে প্রতিযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে ভালো কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকবে।
শিক্ষার্থীদের অনেকের কাছে ভর্তি পরীক্ষা না থাকার সিদ্ধান্ত স্বস্তির হলেও অভিভাবকদের মধ্যে কলেজ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ থাকে। কারণ পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অনেকাংশেই এসএসসি ফল এবং পছন্দক্রমের ওপর নির্ভর করবে। তাই শুধু একটি কলেজের ওপর নির্ভর না করে বাস্তবসম্মতভাবে একাধিক পছন্দ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালা ও নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির চূড়ান্ত সময়সূচি, আবেদন শুরুর তারিখ, আবেদনের ফি, ফল প্রকাশ ও ভর্তি নিশ্চায়নের সময়সীমা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভর্তি পরীক্ষা না থাকলেও ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দালালের মাধ্যমে ভর্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা না করা। কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করাই হবে নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতি।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বাংলাদেশের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এসএসসি থেকে উচ্চমাধ্যমিকে প্রবেশের এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষার ক্ষেত্র নির্ধারণে কলেজ ও বিভাগ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভর্তি পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীদের এখন মূল মনোযোগ দিতে হবে এসএসসি ফল, পছন্দের কলেজ নির্বাচন এবং নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করার দিকে।
সব মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা না থাকার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি পরীক্ষা ও মানসিক চাপ কমাবে। তবে ভালো কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকবে আগের মতোই। তাই ফল প্রকাশের পর তাড়াহুড়া না করে ভর্তি নীতিমালা, কলেজের যোগ্যতা ও আসনসংখ্যা বিবেচনা করে পছন্দক্রম নির্ধারণ করাই হবে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
