নিজস্ব প্রতিবেদক
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন চলছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্সে উত্থান দেখা দিয়েছে। দিনের লেনদেনের শুরুতেই বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দেওয়ায় সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
মঙ্গলবার লেনদেন চলাকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯১২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরবৃদ্ধির প্রবণতাই ছিল বেশি। এ সময়ে ২৬২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ৬১টি কোম্পানির এবং ৫৯টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজারের এ চিত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দরপতনের পর অপেক্ষাকৃত কম দামে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হওয়ায় বাজারে ক্রয়চাপ বেড়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের লেনদেন পর্যালোচনা করলে পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কোনো দিন সূচক ও অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে, আবার কোনো দিন দরপতন হয়েছে। ফলে বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে—এমনটা বলার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীরা বাজারের গতিপ্রকৃতি বুঝে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে একদিকে যেমন কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় কিছু শেয়ারে বিক্রির চাপও দেখা যাচ্ছে। এ কারণে সূচকের উত্থান-পতন অব্যাহত রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে টেকসই ইতিবাচক ধারা ফেরাতে হলে শুধু সূচকের উত্থান যথেষ্ট নয়। লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। একই সঙ্গে বাজারে কারসাজি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারিও প্রয়োজন।
মঙ্গলবারের লেনদেনে ২৬২টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি বাজারে ক্রেতাদের আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দিনের শেষ পর্যন্ত এই অবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। লেনদেন শেষে সূচকের অবস্থান এবং মোট লেনদেনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বাজারের প্রকৃত গতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক মিশ্র প্রবণতার মধ্যেও যদি ধারাবাহিকভাবে দরবৃদ্ধি ও লেনদেন বাড়তে থাকে, তাহলে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
