নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশের শেয়ারদর এখন অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করছে। সর্বশেষ পাওয়া বাজারতথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের বিপরীতে অন্তত ১০টি ব্যাংকের শেয়ার ১০ টাকার নিচে লেনদেন হচ্ছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে অভিহিত মূল্যের নিচে রয়েছে।
প্রাপ্ত বাজারতথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে কম দরে লেনদেন হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে জাতীয় ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির শেয়ারদর প্রায় ৩ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের তুলনায় বাজারদর প্রায় ৬২ শতাংশ কম। আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারদর প্রায় ৫ টাকা এবং এবি ব্যাংকেরও প্রায় ৫ টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদরও প্রায় ৫ টাকা।
অন্যদিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারদর প্রায় ৫ টাকা ৭০ পয়সা। এনআরবি ব্যাংকের দর প্রায় ৬ টাকা ৫০ পয়সা এবং এসবিএসি ব্যাংকের শেয়ারদর প্রায় ৭ টাকা ৫০ পয়সা। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারদর প্রায় ৭ টাকা ২০ পয়সা। ওয়ান ব্যাংকের দর প্রায় ৮ টাকা এবং এনআরবিসি ব্যাংকের প্রায় ৮ টাকা ৭০ পয়সা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ারদরও ১০ টাকার সামান্য নিচে, প্রায় ৯ টাকা ৯০ পয়সা।
১০ টাকা অভিহিত মূল্যের নিচে থাকা ব্যাংক
| ক্রম | ব্যাংকের নাম | সর্বশেষ পাওয়া দর | অভিহিত মূল্য | কমেছে |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ন্যাশনাল ব্যাংক লি: | ৩.৮০ টাকা | ১০ টাকা | ৬.২০ টাকা |
| ২ | এবি ব্যাংক পিএলসি | ৫.০০ টাকা | ১০ টাকা | ৫.০০ টাকা |
| ৩ | আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি | ৫.০০ টাকা | ১০ টাকা | ৫.০০ টাকা |
| ৪ | স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি | ৫.০০ টাকা | ১০ টাকা | ৫.০০ টাকা |
| ৫ | প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি | ৫.৭০ টাকা | ১০ টাকা | ৪.৩০ টাকা |
| ৬ | এনআরবি ব্যাংক পিএলসি | ৬.৫০ টাকা | ১০ টাকা | ৩.৫০ টাকা |
| ৭ | মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি | ৭.২০ টাকা | ১০ টাকা | ২.৮০ টাকা |
| ৮ | এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি | ৭.৫০ টাকা | ১০ টাকা | ২.৫০ টাকা |
| ৯ | ওয়ান ব্যাংক পিএলসি | ৮.০০ টাকা | ১০ টাকা | ২.০০ টাকা |
| ১০ | এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি | ৮.৭০ টাকা | ১০ টাকা | ১.৩০ টাকা |
| ১১ | ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি | ৯.৯০ টাকা | ১০ টাকা | ০.১০ টাকা |
তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়িত অবস্থানে রয়েছে জাতীয় ব্যাংক। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারটি প্রায় ৩ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হওয়ায় অভিহিত মূল্যের তুলনায় বাজারদর কমেছে প্রায় ৬২ শতাংশ। বিপরীতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ক্ষেত্রে ব্যবধান মাত্র ১০ পয়সা।
ব্যাংকগুলোর শেয়ারদর অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে যাওয়ার পেছনে শুধু সামগ্রিক পুঁজিবাজারের দুর্বলতা নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, মুনাফা, লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা এবং সুশাসন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে না পারা কয়েকটি ব্যাংকের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরও প্রকট হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় ১০টি ব্যাংককে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংককেও একই কারণে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামানো হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, কোনো ব্যাংকের শেয়ার ১০ টাকার নিচে নেমে যাওয়া নিজে থেকেই সেটিকে সস্তা বা আকর্ষণীয় বিনিয়োগে পরিণত করে না। বরং শেয়ারটির প্রকৃত মূল্যায়নে ব্যাংকের নিট সম্পদমূল্য, আয়, খেলাপি ঋণের পরিমাণ, মূলধন পর্যাপ্ততা, সঞ্চিতি ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ মুনাফার সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি।
এদিকে ব্যাংক খাতের সব শেয়ারের চিত্র এক নয়। ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের উল্লেখযোগ্য ওপরে লেনদেন করছে। অর্থাৎ ব্যাংক খাতের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও মূল্যায়নে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের নিচে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা এখন পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের দুর্বলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে। তবে শেয়ারদর কম—এমন বিবেচনায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করাই হবে বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
