নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্ল্যামার বলতে আসলে কী বোঝায়? এর কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন। অনেকটা ব্যক্তিগত স্টাইলের মতোই গ্ল্যামার একটি অধরা বিষয়—যার মধ্যে থাকে স্বাভাবিক আকর্ষণ, আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব এবং এমন এক উপস্থিতি, যা সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না। কেবল দামি পোশাক বা অলংকারে গ্ল্যামার তৈরি হয় না; বরং পোশাক পরার ধরন, ছোট ছোট স্টাইলিংয়ের সিদ্ধান্ত এবং একজন মানুষের সামগ্রিক উপস্থিতিই তাকে আলাদা করে তোলে।
নারীদের ক্ষেত্রে গ্ল্যামারের উদাহরণ খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক সহজ। সমাজের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্ব লি র্যাডজিউইলের স্টাইল ছিল এর একটি অনন্য উদাহরণ। ঢিলেঢালা শাল বা কেপের সঙ্গে নিখুঁতভাবে সাজানো চুল এবং বড় আকৃতির গয়না—সব মিলিয়ে তার উপস্থিতি ছিল স্বতন্ত্র। তার বোন জ্যাকি কেনেডির স্টাইলেও ছিল নিজস্বতার ছাপ। মাথায় সিল্কের স্কার্ফ এবং বড় আকৃতির সানগ্লাস ছিল তার পরিচিত সাজের অংশ।
ফ্যাশন দুনিয়ার কিংবদন্তি ডায়ানা ভ্রিল্যান্ডও গ্ল্যামারের এক আলাদা সংজ্ঞা তৈরি করেছিলেন। প্রায় পুরোপুরি কালো পোশাকের সঙ্গে কোমরে লাল স্কার্ফ জড়িয়ে নেওয়ার তার স্টাইল ছিল অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু একই সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন। সামান্য রঙের এই ব্যবহার পুরো পোশাককে যেন একটি শিল্পকর্মে পরিণত করত। তার সেই স্বতন্ত্র স্টাইলিংয়ের প্রভাব এখনো ফ্যাশন দুনিয়ায় দেখা যায়। সম্প্রতি শ্যানেলের একটি শোতেও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ম্যাথিয়ু ব্লাজির কাজে সেই ভাবনার প্রতিফলন দেখা গেছে।
তবে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রকৃত গ্ল্যামারের উদাহরণ তুলনামূলকভাবে কমই চোখে পড়ে। কারণ পুরুষের ফ্যাশনে দীর্ঘদিন ধরে পোশাকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রচলিত কাঠামোই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবু কিছু পুরুষ তাদের ব্যক্তিত্ব ও স্টাইল দিয়ে সেই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙেছেন।
প্রয়াত ইতালীয় ডিজাইনার জর্জিও আরমানি ছিলেন তাদের অন্যতম। তার স্টাইল ছিল সহজ, পরিশীলিত এবং একই সঙ্গে শক্তিশালী। গাঢ় বাদামি রঙের ত্বকের সঙ্গে নেভি রঙের নিখুঁত কাটের ট্রাউজার ও একই রঙের টি-শার্ট ছিল তার স্বাক্ষরধর্মী পোশাক। এতে ছিল না অতিরিক্ত চাকচিক্য; বরং সরলতার মধ্যেই ফুটে উঠত আভিজাত্য।
এ তালিকায় মার্কিন র্যাপার ও ফ্যাশন আইকন এএসএপি রকির নামও উল্লেখযোগ্য। তার পোশাকে প্রায়ই দেখা যায় পুরোনো ধাঁচের সেন্ট লরেন্ট স্যুট, নজরকাড়া ব্যাগ ও ব্যতিক্রমী ফ্যাশন অনুষঙ্গ। তিনি পোশাকের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে ব্যক্তিগত রুচির সমন্বয় করে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন।
ফরাসি ডিজাইনার হায়দার অ্যাকারম্যানের স্টাইলও পুরুষের গ্ল্যামারের একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ। একটি সাধারণ স্যুটকেও তিনি গলার অংশে সামান্য পরিবর্তন এনে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। কখনো অপেরা স্কার্ফ, কখনো সিল্কের স্কার্ফ, আবার কখনো শুধু ব্লেজারের কলার উল্টে দিয়েই তৈরি করেন আলাদা মাত্রা।
সবশেষে বলা যায়, প্রকৃত গ্ল্যামার শুধু পোশাকে নয়। এটি ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ এবং নিজের স্টাইলকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলার ক্ষমতা। ফ্যাশন বদলায়, প্রবণতা বদলায়; কিন্তু নিজের স্বাতন্ত্র্যকে ধারণ করার ক্ষমতাই একজন মানুষকে সত্যিকারের গ্ল্যামারাস করে তোলে।
