প্রতিবেদক, খুলনা :
দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের বার্তা দিতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে এমন আলোচনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় আসন হারানোর ঝুঁকি থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থানকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের পর নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হলে আসনটি শূন্য ঘোষণার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। পরবর্তী সময়ে উপনির্বাচন হলে সেখানে জামায়াতের পক্ষ থেকে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়েও এরই মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে আসনটিতে উপনির্বাচন হলে দলটি শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হলে জামায়াতের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন বলেও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এ অবস্থায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নাম আলোচনায় এসেছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের তৃণমূল নেতাকর্মী এবং স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে সচেতন মহলের একটি অংশ মনে করছে, জাতীয় সংসদে জামায়াতের একটি শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ কণ্ঠ নিশ্চিত করতে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার এর আগে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে অভিজ্ঞতার কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছেন তাঁর সমর্থকরা। তাদের মতে, জাতীয় সংসদে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দাবিদাওয়া জোরালোভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
খুলনা ও সাতক্ষীরার সঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জনস্বার্থের ইস্যুতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথাও তুলে ধরছেন সমর্থকরা। তাদের প্রত্যাশা, সাতক্ষীরা-৪ আসনে তাঁকে প্রার্থী করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কোনো দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা কোনো একটি আসনে প্রার্থী হলে সেটি শুধু নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় থাকে না; এর সঙ্গে দলের সাংগঠনিক শক্তি, জনসম্পৃক্ততা এবং জাতীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ অবস্থানের প্রশ্নও যুক্ত হয়। সে বিবেচনায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন শীর্ষ নেতাকে সাতক্ষীরা-৪ আসনে প্রার্থী করার আলোচনা তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে সাতক্ষীরা-৪ আসনে প্রার্থী করার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নেবে। ফলে উপনির্বাচন হলে শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী করা হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর দলীয় পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে জামায়াত নিজেদের শৃঙ্খলা ও আদর্শিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, ব্যক্তি বা আসনের রাজনৈতিক হিসাবের চেয়ে দলীয় নীতি ও জনআস্থাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনকে ঘিরে সম্ভাব্য উপনির্বাচনের আলোচনা এখন দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে আসনটি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে দলীয় ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের প্রশ্ন—দুই দিক বিবেচনায় জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর সেই আলোচনায় কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি।
