নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই বিপ্লবে শিল্পীদের আঁকা ছবি ও গ্রাফিতির ভূমিকা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ফকির। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করতে চারুশিল্পী পরিষদের উদ্যোগে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোররা জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস জানার পাশাপাশি নতুন ইতিহাস তৈরির উপযোগী করে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ অডিটোরিয়ামে চারুশিল্পী পরিষদ আয়োজিত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ফকির বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতি একটি জাতির ইতিহাস, সংগ্রাম ও মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে। জুলাই বিপ্লবের সময় শিল্পীদের আঁকা বিভিন্ন ছবি ও গ্রাফিতি মানুষের প্রতিবাদী চেতনাকে প্রকাশ করেছে। এসব শিল্পকর্ম আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহকে দৃশ্যমান করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সাহস ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস ও চেতনা তুলে ধরতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম ইতিহাসকে জানবে, নিজেদের সৃজনশীলতা বিকশিত করবে এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে নিজেদের প্রস্তুত করার সুযোগ পাবে।
চারুশিল্পী পরিষদের সভাপতি ইব্রাহীম মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাচিক শিল্পী শরীফ বায়েজীদ মাহমুদ, বিসিএর সভাপতি আবেদুর রহমান, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি ড. মনোয়ারুল ইসলাম এবং চারুশিল্পী পরিষদের সেক্রেটারি মফাচ্ছির আহম্মদ ফয়েজী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মনিরুল ইসলাম, অভিভাবক ইয়াকুব আলী জুলমতীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, অভিভাবক ও শিশু-কিশোররা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক শিশু-কিশোর অংশ নেয়। জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস, চেতনা, আন্দোলন ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ পায় তারা।
প্রতিযোগিতাটি শিশু, ‘ক’ ও ‘খ’—এই তিনটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়। তিন গ্রুপে মোট ৩১টি পুরস্কার দেওয়া হয়। বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের ভাবনা ও অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মধ্যে দেশ, সমাজ ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা মাধ্যমে সেই ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শিশু-কিশোরদের শিল্পচর্চার সঙ্গে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিচয় করিয়ে দেওয়া জরুরি। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
চারুশিল্পী পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতার বিকাশের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের ইতিহাসকে শিল্পের মাধ্যমে ধারণ করার একটি প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
