মির্জা ফখরুলকে তার ত্যাগের পুরষ্কার দিতে পারেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জুলাই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এরই মধ্যে স্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা না হলেও দলটির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় একাধিক প্রবীণ নেতার নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।
দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তিনি ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে প্রায় পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বেও ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির রাজনীতিতে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ পথচলাও তাঁর সম্ভাব্যতার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দলটির কঠিন সময়গুলোতে তিনি প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংবাদ সম্মেলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের বিরোধী রাজনীতিতে তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। বিভিন্ন সময় তাঁকে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি হতে হয়েছে এবং রাজনৈতিক মামলাও মোকাবিলা করতে হয়েছে।
দলের অভ্যন্তরে তাঁর আরেকটি বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয় ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি। বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাঁকে অপেক্ষাকৃত পরিমিত, ভদ্র ও সংলাপমুখী রাজনীতিক হিসেবে দেখে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আনুগত্যও দলের একটি অংশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি আরও কয়েকজন প্রবীণ বিএনপি নেতার নামও সম্ভাব্য তালিকায় আলোচিত হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খান। বিএনপির ১১ জুলাই ২০২৬-এর জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সরকারি তালিকাতেও মির্জা ফখরুল, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের উপস্থিতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নামও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব নেন। (BSS)
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি জনগণের ভোটে হয় না। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। (Bdlaws)
এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিএনপি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করছে না—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। একইভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও এখন পর্যন্ত বিএনপির আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নয়।
তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুলের নামকে সম্ভাব্য তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে দেখা গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কিংবা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় ভারসাম্য এবং রাষ্ট্রপতি পদের সাংবিধানিক ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
