কমেছে জিপিএ-৫, ৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পাসের হার ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০০৯ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে নিচে নেমেছে।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। পাসের হার কমার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যাও কমে যাওয়ায় এবারের ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এবার দেশের ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন ছাত্রী এবং ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন ছাত্র। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
ফলাফলের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো, দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৭৮টি।
অন্যদিকে, এবার দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি। ফলে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এবার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এবার শুধু পাসের হারই কমেনি, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। বিপরীতে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এসব পরিসংখ্যান দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষার ফলাফলের পার্থক্য নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সামনে এখন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রস্তুতি নেবে। অন্যদিকে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলের এই চিত্র এখন শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়ন ও পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
