loader image
শিরোনাম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তরিত কর্মীদের চাকরি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

একীভূত ব্যাংকগুলোর যোগ্য কর্মীরা নতুন ব্যাংকে বহাল থাকবেন, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী চাকরির শর্ত পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে পরিচালনা পর্ষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের আওতায় একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-তে স্থানান্তরিত ব্যাংকগুলোর (এক্সিম ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) বিদ্যমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্যকর তারিখের অব্যবহিত আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর চাকরিতে থাকা এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই, এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়ম মেনে নতুন ব্যাংকে যোগ দিয়ে থাকলে তাদের চাকরি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ স্বাক্ষরিত ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের আওতায় জারি করা স্কিমের ১৭ নম্বর ধারায় এ সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে একীভূত ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান কর্মীদের চাকরির ধারাবাহিকতা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার একটি আইনি কাঠামো নির্ধারিত হলো।

স্কিমে বলা হয়েছে, কার্যকর তারিখের অব্যবহিত আগে স্থানান্তরকারী ব্যাংকের চাকরিতে নিয়োজিত এমন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই এবং যারা চাকরিবিধি অনুসরণ করে স্থানান্তরকারী ব্যাংকের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তারা কার্যকর তারিখ থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে স্থানান্তরিত বা কর্মরত হিসেবে গণ্য হবেন।

তবে নতুন ব্যাংকে বহাল থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করার ক্ষমতা থাকবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের হাতে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা কমে গেলে তিনি তা নিয়ে আপত্তি করতে পারবেন না—এমন শর্তও রাখা হয়েছে স্কিমে।

এ ছাড়া কার্যকর তারিখে অথবা এর পর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি লিখিতভাবে জানান যে তিনি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করতে আগ্রহী নন, তাহলে তাকে নতুন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হবে না। অর্থাৎ নতুন ব্যাংকে চাকরি অব্যাহত রাখার বিষয়ে অনিচ্ছা থাকলে তা লিখিতভাবে জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চাকরি-সংক্রান্ত চুক্তিতে ভিন্ন কোনো শর্ত থাকলেও, ব্যাংকের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে অথবা স্থানান্তরকারী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড, চাকরিবিধি লঙ্ঘন কিংবা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বরখাস্ত করতে পারবে।

স্কিমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্থানান্তর বা হস্তান্তর প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংক সংরক্ষণ করেছে। অর্থাৎ একীভূতকরণ ও কর্মী স্থানান্তর প্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকছে।

ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন ও দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আমানতকারী, ঋণগ্রহীতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থের পাশাপাশি ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পরিচালন কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে একীভূত ব্যাংকগুলোর যোগ্য ও নিয়ম মেনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি অব্যাহত রাখার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো তৈরি হলো। তবে একই সঙ্গে নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে চাকরির শর্ত পুনর্নির্ধারণ এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সামনে একদিকে চাকরির ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে দক্ষতা ও জবাবদিহিতা—দুই বিষয়ই গুরুত্ব পাবে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top