হস্তান্তরের পরও পুরোনো ব্যাংকের নামে ছাপা চেক, জমা স্লিপ ও অন্যান্য ব্যাংকিং দলিল বৈধ থাকবে; আন্তঃব্যাংক দায় পরিশোধে দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি সময়
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাংক রেজ্যুলেশন বা ব্যাংক পুনর্গঠন কার্যক্রমের আওতায় কোনো ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর বা একীভূত হলেও গ্রাহকদের ব্যবহৃত পুরোনো ব্যাংকিং দলিল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে না। হস্তান্তরকারী ব্যাংকের নামে বা পরিচয়ে মুদ্রিত ও প্রচলিত চেক, জমা স্লিপ, উত্তোলন স্লিপ, ভাউচার, ফরম, রসিদ, আবেদনপত্রসহ অন্যান্য ব্যাংকিং দলিলকে সাময়িকভাবে বৈধ ও অনুমোদিত দলিল হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইনের আওতায় প্রণীত সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, রেজ্যুলেশন স্কিম কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত হস্তান্তরকারী ব্যাংকের নামে বা পরিচয়ে মুদ্রিত, প্রকাশিত কিংবা ব্যবহৃত এসব ব্যাংকিং দলিল বৈধ বলে বিবেচিত হবে। ফলে ব্যাংক হস্তান্তর বা পুনর্গঠনের কারণে গ্রাহকদের হাতে থাকা পুরোনো চেক বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে অকার্যকর হয়ে যাবে না।
এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক পুনর্গঠন বা একীভূতকরণের সময় গ্রাহকদের দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব গ্রাহকের কাছে আগে থেকে পুরোনো ব্যাংকের চেকবই রয়েছে কিংবা কোনো লেনদেনের জন্য জমা স্লিপ, উত্তোলন স্লিপ বা অন্য কোনো ব্যাংকিং দলিল ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহৃত ও উপস্থাপিত কোনো চেক, জমা স্লিপ, উত্তোলন স্লিপ, ভাউচার বা অন্যান্য ব্যাংকিং দলিলে শুধু হস্তান্তরকারী ব্যাংকের নাম, লোগো, সংক্ষিপ্ত নাম কিংবা অন্য কোনো পরিচিতি উল্লেখ থাকার কারণে ওই দলিলের বৈধতা, কার্যকারিতা বা গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না কিংবা তা অকার্যকর বলে গণ্য করা যাবে না।
ব্যাংক রেজ্যুলেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি লেনদেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের মতে। কারণ কোনো ব্যাংক সংকটাপন্ন হওয়ার পর সেটিকে অন্য ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর, পুনর্গঠন কিংবা একীভূত করার প্রক্রিয়ায় পুরোনো ব্যাংকের নাম ও পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্র নিয়ে গ্রাহক ও ব্যাংক—উভয় পক্ষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন ব্যবস্থায় সেই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে ব্যাংক রেজ্যুলেশন কাঠামোয় শুধু গ্রাহকদের ব্যবহৃত দলিলের বৈধতাই নয়, ব্যাংকগুলোর পারস্পরিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হস্তান্তরিত ব্যাংকের হিসাবায়িত আন্তঃব্যাংক দায় কার্যকর তারিখ থেকে ১০ বছর মেয়াদে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিট বকেয়া দায়ের ওপর প্রচলিত ব্যাংক হারের চেয়ে ১ শতাংশ কম হারে মুনাফা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে হস্তান্তরকারী ব্যাংকগুলোর কার্যকর তারিখের আগের প্রভিশন ঘাটতি হস্তান্তরগ্রহীতা ব্যাংক পরবর্তী ১০ অর্থবছরে অর্জিত মুনাফা থেকে ধীরে ধীরে সমন্বয় করতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এই সময়সীমা কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা সংরক্ষণ করেছে।
সব মিলিয়ে, ব্যাংক রেজ্যুলেশন ব্যবস্থায় গ্রাহকের লেনদেনের ধারাবাহিকতা এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক দায় ব্যবস্থাপনা—দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো ব্যাংকের নামে থাকা চেক ও অন্যান্য ব্যাংকিং দলিলকে তাৎক্ষণিকভাবে অকার্যকর না করার সিদ্ধান্ত ব্যাংক হস্তান্তর বা পুনর্গঠনের সময় গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেন সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
