loader image
শিরোনাম

আমানতের সুদে কর কর্তনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

গ্রাহকের আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফায় সঠিক হারে উৎসে কর কাটার নির্দেশ; নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দিলে ব্যাংককে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তন এবং সেই কর নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আয়কর আইন, ২০২৩ ও উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩ যথাযথভাবে পরিপালন না করায় বিভিন্ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে কর কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ার পর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তন এবং কর্তনকৃত কর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো আইনানুগ হারে কর কর্তন না করায় পরবর্তী সময়ে কর সমীক্ষা ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কর কর্তন না করায় সরকারের রাজস্ব হারানোর ঘটনাও ঘটছে।

এ অবস্থায় আয়কর আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুসারে আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার ওপর প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কর্তন এবং কর্তনকৃত কর যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে অধিকতর সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০২ অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃক গ্রাহকের সঞ্চয়ী আমানত, স্থায়ী আমানত, মেয়াদি আমানত বা অন্য কোনো আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার ওপর প্রাপকের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কর্তন করতে হবে। অর্থাৎ সব ধরনের আমানতের ক্ষেত্রে একই হারে কর কর্তনের সুযোগ নেই; আমানতকারী বা প্রাপকের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট বিধানের ভিত্তিতে সঠিক হার নির্ধারণ করে কর কাটতে হবে।

অন্যদিকে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৪১ অনুযায়ী কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে করদাতা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বা পিএসআর উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হারের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হবে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তা যাচাইয়ের বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্তনকৃত উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সময়সীমাও সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে। উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাস পর্যন্ত কোনো মাসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে তা কর্তন বা সংগ্রহের মাসের শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

তবে অর্থবছরের জুন মাসে কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সময়সীমা আরও সংক্ষিপ্ত। জুন মাসের প্রথম থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কোনো দিনে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে তা কর্তন বা সংগ্রহের দিনের পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। আর জুন মাসের অন্যান্য দিনে অর্থাৎ ২১ জুন থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে তা কর্তন বা সংগ্রহের পরবর্তী দিনেই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ব্যাংক কর্তৃক কর্তনকৃত উৎসে কর কোনোভাবেই উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর নির্ধারিত সময়সীমার বেশি মেয়াদে ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে কর জমা দেওয়ার পাশাপাশি উৎসে কর কর্তনসংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় বিবরণী ও চালানের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর অন্যান্য প্রযোজ্য বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এর পরিচালক গাজী মোঃ মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সার্কুলারটি আজ সোমবার দেশের ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে আমানতের সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময় সঠিক হারে উৎসে কর কর্তন থেকে শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোকে কঠোরভাবে আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top