প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা; ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতাকে ০.১০ শতাংশ এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবাপ্রদানকারীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় ব্যক্তিক খুচরা হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ড করা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবাপ্রদানকারীরা বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা পাবেন। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে আজ সোমবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রদানকারী ও পেমেন্ট সিস্টেমস অপারেটরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে স্বাক্ষর করেছেন পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২-এর সংশ্লিষ্ট পরিচালক।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট সহজীকরণ, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আনা এবং দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য করার মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পরিশোধ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিক খুচরা হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ড করা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবাপ্রদানকারীর মার্চেন্ট পেমেন্টে সম্পাদিত ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.১০ শতাংশ এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.২০ শতাংশ হারে এই প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে লেনদেনের স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কোনো একটি লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে বিভক্ত করে প্রণোদনা পাওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। একইভাবে লেনদেনের কাঠামো কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করা বা প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের কৌশল অবলম্বন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কোনো লেনদেন ব্যর্থ, বাতিল, ফেরত, অর্থ ফেরত, আপত্তিকৃত কিংবা পরবর্তী সময়ে বাতিল হয়ে গেলে সেই লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ প্রকৃত ও সফল লেনদেনের ক্ষেত্রেই কেবল এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক দলিলপত্র যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদি সরবরাহ করতে হবে।
এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা অন্য কোনো ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে ভুলবশত প্রণোদনা পেয়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রণোদনার অর্থ ফেরত গ্রহণ করতে পারবে। প্রয়োজনে পরবর্তী প্রণোদনার অর্থের সঙ্গে সেই অর্থ সমন্বয় করারও সুযোগ থাকবে।
লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো অস্বাভাবিক সংখ্যা বা অস্বাভাবিক ধরনের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে তা পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে। কৃত্রিমভাবে লেনদেন বিভাজন, নগদ অর্থ উত্তোলন বা অন্য কোনো ধরনের অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেওয়া এবং সময়মতো পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থাসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সেবাপ্রদানকারীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যক্তিক খুচরা হিসাবের মাধ্যমে যুক্ত ছোট ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে আগ্রহ বাড়লে নগদনির্ভর লেনদেন কমার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের পরিধিও বাড়বে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, উল্লেখিত নির্দেশনাগুলো আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। ফলে ওই তারিখ থেকে যোগ্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবাপ্রদানকারীর বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের বিপরীতে ঘোষিত প্রণোদনা কার্যকর হবে।
