loader image
শিরোনাম

যেকোনো মূল্যে ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানোর অঙ্গীকার

খেলাপিদের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নয়, অর্থঋণ মামলার বিচার ছয় মাসে শেষ করার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ। তিনি বলেছেন, ব্যাংক খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মামলা ঝুলিয়ে রেখে দায় এড়ানোর সুযোগও বন্ধ করা হবে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন গভর্নর। এ সময় তিনি দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ মাকসুদুর রহমান এফসিএমএ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক এএনএম মঈনুল কবীর।

গভর্নর বলেন, যারা ঋণখেলাপি হয়ে বছরের পর বছর মামলা চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দায় এড়িয়ে যেতে চান, তাদের জন্য এটি স্পষ্ট বার্তা। অর্থঋণসংক্রান্ত যে আইন প্রস্তাব করা হয়েছে, তার মাধ্যমে এসব মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মামলাগুলো ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন বছরের পর বছর মামলা করে থাকা যাবে এবং এভাবে ঋণ পরিশোধের দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। অর্থঋণসংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।
ব্যাংক খাতে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে গভর্নর বলেন, আর্থিক খাতে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের আমানত ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার পেছনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ পরিশোধে অনীহার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই এসব বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানোই এখন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেকোনো মূল্যে ব্যাংক খাতে মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

গভর্নরের বক্তব্যে খেলাপি ঋণ আদায় ও ব্যাংক খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ খেলাপি ঋণ, ঋণ বিতরণে অনিয়ম এবং অর্থঋণ মামলার দীর্ঘসূত্রতা দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত বিচার ও কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু নতুন আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
গভর্নরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্যাংক খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার যে বার্তা এসেছে, তা আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চলমান উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top