নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৫ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অ-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মুনাফা অর্জনে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে ২ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
মুনাফার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। এরপর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটি আলোচ্য বছরে ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
এদিকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি প্রায় ৬৯৯ কোটি টাকা মুনাফা নিয়ে তালিকার পরের অবস্থানে রয়েছে। একই সময়ে মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসি ৬৬৪ কোটি টাকা এবং যমুনা অয়েল পিএলসি ৬৪৮ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।
এ ছাড়া বিএসআরএম প্রায় ৬১৪ কোটি টাকা এবং পদ্মা অয়েল পিএলসি ৫৬২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ফলে ২০২৫ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বড় অ-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শক্তিশালী মুনাফা অর্জন করেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ আট প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত মুনাফার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মুনাফাই সবচেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওষুধ, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও ইস্পাতসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বড় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
শেয়ারবাজারের জন্যও এ ধরনের মুনাফার প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী আর্থিক সক্ষমতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের ভালো মুনাফা ভবিষ্যতে লভ্যাংশ প্রদান এবং কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণের সক্ষমতাও বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের মুনাফার চিত্রে দেশের তালিকাভুক্ত অ-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস স্পষ্টভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছে। আর্থিক ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী অবস্থান দেশের শিল্প ও করপোরেট খাতের সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।
