loader image
শিরোনাম

চার বছর পর বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। গত ২৯ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে। এর আগের দিন এ মজুত ছিল ৩৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ একদিনেই মজুত বেড়েছে প্রায় ৭৪ কোটি ডলার।

দীর্ঘ সময় ধরে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমে যাওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত পদক্ষেপের কারণে মজুতের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তা ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরও অতিক্রম করে। এর আগে প্রায় ৪৪ মাস ধরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে ছিল।

মজুত বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। গত অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সময়ে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও শক্তিশালী হয়েছে।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনেছে। এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত ডলার সরবরাহের চাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুতও বাড়াতে সহায়তা করেছে।

তবে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পরিমাণ হিসাব করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। মোট মজুতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাবপদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য মজুতের পরিমাণও বিবেচনা করা হয়। ফলে শুধু মোট মজুতের পরিমাণ দিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতা পুরোপুরি মূল্যায়ন করা যায় না।

বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। এর ফলে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বিদেশি ঋণের দায় মেটানো এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের সক্ষমতা কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মজুতের এই ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখতে হলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশে আনার প্রবাহ আরও বাড়ানো জরুরি। তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top