দেশে মোট ক্রেডিট কার্ড ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৯টি
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ক্রেডিট কার্ড ইস্যুতে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্যাংকটির ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ১৯২টি। সামগ্রিকভাবে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৬টি ব্যাংকে ক্রেডিট কার্ড চালু রয়েছে এবং এসব ব্যাংকের ইস্যু করা মোট ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৯টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ব্যাংকটির ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮০টি। শীর্ষ দুই ব্যাংকের মধ্যে ব্যবধান মাত্র ৯ হাজার ২১২টি কার্ড। ফলে ক্রেডিট কার্ড বাজারে শীর্ষস্থান নিয়ে দুই ব্যাংকের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৭ লাখ ২৩ হাজার ৮৩০টি। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের তুলনায় সিটি ব্যাংকের কার্ড সংখ্যা ১৪ হাজার ১৫০টি কম। আর শীর্ষে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের তুলনায় সিটি ব্যাংকের কার্ড সংখ্যা ২৩ হাজার ৩৬২টি কম।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪৭টি। পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৯টি।
শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের বাইরে ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। ব্যাংকটির ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৫টি। এরপর রয়েছে এনআরবি ব্যাংক, যার ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭২টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরো দেখা যায়, বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়ার ক্রেডিট কার্ড রয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৮টি। মেঘনা ব্যাংকের রয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩টি এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের রয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪টি ক্রেডিট কার্ড। ফলে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় এক লাখের বেশি ক্রেডিট কার্ড থাকা এসব ব্যাংকও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।
এক লাখের বেশি ক্রেডিট কার্ড রয়েছে এমন ব্যাংকের তালিকায় আরও রয়েছে প্রাইম ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক। প্রাইম ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৭৯টি এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ১ লাখ ৩০ হাজার ৩১৭টি। অর্থাৎ শীর্ষ ১০-এর বাইরে থাকা এই দুই ব্যাংকও দেশের ক্রেডিট কার্ড বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্রেডিট কার্ড বাজারের বড় একটি অংশ কয়েকটি শীর্ষ ব্যাংকের হাতে কেন্দ্রীভূত। বিশেষ করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৩৩ লাখ ২৯ হাজার ৬২৮টি। অর্থাৎ দেশের মোট ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৯টি ক্রেডিট কার্ডের প্রায় ৬০ শতাংশই রয়েছে এই পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের হাতে।
শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, ক্রেডিট কার্ড সেবায় দেশীয় ও বিদেশি—উভয় ধরনের ব্যাংকের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবসার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংকের মতো দেশীয় ব্যাংকগুলোও ক্রেডিট কার্ড ব্যবসায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
বর্তমানে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। অনলাইন কেনাকাটা, ভ্রমণ, রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, শিক্ষা, ই-কমার্সসহ বিভিন্ন সেবায় কার্ড ব্যবহারের সুযোগ বাড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও গ্রাহক আকর্ষণে ছাড়, কিস্তি সুবিধা, পুরস্কার, ক্যাশব্যাক ও বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে।
তবে ক্রেডিট কার্ডের বিস্তারের সঙ্গে দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আয় ও পরিশোধ সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্ড ব্যবহার না করলে গ্রাহকের ওপর সুদ ও বকেয়া পরিশোধের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ক্রেডিট কার্ডের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রাহকের আর্থিক সচেতনতা এবং ব্যাংকগুলোর দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬ পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৪৬টি ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। আর মোট ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৯টি ক্রেডিট কার্ডের বাজারে ৭ লাখ ৪৭ হাজার ১৯২টি কার্ড নিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এখন শীর্ষে। তবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও দ্য সিটি ব্যাংকও খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় ভবিষ্যতে শীর্ষস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

