আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন অবনমন, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পর্যালোচনা শেষে শাস্তির সিদ্ধান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। একই ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লঘুদণ্ড হিসেবে বেতন অবনমনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল কমিশন। নোটিশে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের দেওয়া জবাব পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা শেষে কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বাধ্যতামূলক অবসরের শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, পরিচালক আবুল হাসান ও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার। একই শাস্তি পেয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালক রাশেদুল আলম।
এ ছাড়া উপপরিচালক মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, বনী ইয়ামিন খান ও তৌহিদ হাসানকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সহকারী পরিচালক পর্যায়ের আমিনুল হক খান, আবদুল বাতেন ও সাজ্জাদ হোসেন এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি ও সমীর ঘোষও একই শাস্তির আওতায় পড়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে লঘুদণ্ড হিসেবে পাঁচ কর্মকর্তার বেতন অবনমন করা হয়েছে। তারা হলেন সহকারী পরিচালক জনি হোসেন, রায়হান কবির, তরিকুল ইসলাম, মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান সেলিম রেজা বাপ্পী।
বিএসইসির এ সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও চাকরি বিধি অনুসরণের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি, সংশ্লিষ্টদের জবাব গ্রহণ ও তা পর্যালোচনার পর শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক ও বিধিবদ্ধ কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন অবনমনের সিদ্ধান্ত সংস্থাটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ধরন এবং কোন কোন চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, সে বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শাস্তির মাত্রা ও অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে এ সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হবে।
