আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ খাতে আবারও নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি রকেট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে একের পর এক নতুন মাইলফলক অর্জন করছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ মহাকাশঘাঁটি থেকে ফ্যালকন নাইন রকেটের মাধ্যমে স্টারলিংক উপগ্রহ কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে স্পেসএক্সের ফ্যালকন পরিবারের রকেট উৎক্ষেপণের সংখ্যা ১০০-তে পৌঁছেছে।
এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আরেকটি ফ্যালকন নাইন উৎক্ষেপণের মাধ্যমে চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটি শততম মহাকাশ অভিযান সম্পন্ন করে। এর ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো এক বছরে অন্তত ১০০টি উৎক্ষেপণের মাইলফলক অর্জন করল স্পেসএক্স। চলতি বছরের অধিকাংশ উৎক্ষেপণই স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। পৃথিবীর কক্ষপথে এখন স্টারলিংকের বিপুলসংখ্যক উপগ্রহ সক্রিয় রয়েছে।
স্পেসএক্সের আরেকটি বড় লক্ষ্য স্টারশিপ। প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে এই বিশাল মহাকাশযানের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ পরীক্ষাগুলোতে স্টারশিপের বিভিন্ন প্রযুক্তি, পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা এবং কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপনের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কিছু পরীক্ষায় প্রত্যাশিত সাফল্য না এলেও প্রতিটি উড্ডয়ন থেকে পাওয়া তথ্য পরবর্তী মিশনের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্পেসএক্সের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। ড্রাগন মহাকাশযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিয়মিত পণ্য ও গবেষণাসামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নভোচারী পরিবহনেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে সরকারি মহাকাশ কর্মসূচির পাশাপাশি বেসরকারি মহাকাশ খাতেও স্পেসএক্সের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।
আগামী দিনগুলোতে স্টারলিংক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ফ্যালকন নাইন ও ফ্যালকন হেভির নিয়মিত উৎক্ষেপণ এবং স্টারশিপের উন্নত সংস্করণের পরীক্ষা স্পেসএক্সের প্রধান কর্মসূচি হিসেবে থাকবে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারলে মহাকাশে যাতায়াতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের ক্ষেত্রেও স্পেসএক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মহাকাশে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনায় তাই প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
