loader image
শিরোনাম

রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, আগস্টের ২২দিনেই ২১৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২২ দিনেই প্রবাসীরা দেশে ২১৫ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। মাসের আরও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকায় শেষ পর্যন্ত আগস্টে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আগের বছরের একই মাসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দেশে প্রায় ৯১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেছে ৭১ কোটি ডলার এবং তৃতীয় সপ্তাহে ৪৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ তিন সপ্তাহেই প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১১ কোটি ডলার। এরপর ২২ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া অর্থ যোগ হয়ে মোট রেমিট্যান্স ২১৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে গত অর্থবছরের পুরো আগস্ট মাসে দেশে ২৪২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি মাসে ইতোমধ্যে ওই পরিমাণের প্রায় ৯০ শতাংশ রেমিট্যান্স চলে এসেছে। মাসের শেষ কয়েক দিনে আরও অর্থ দেশে এলে আগস্টের মোট রেমিট্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

চলতি অর্থবছরের শুরুতেও রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবাহ দেখা গেছে। এর আগে জুলাই মাসে প্রবাসীরা দেশে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন। একক মাস হিসেবে এটি ছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স। জুলাইয়ের পর আগস্টেও প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা সুবিধা এবং প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়লে দেশের আনুষ্ঠানিক বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রবাসী আয় বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বৃদ্ধি পায় এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতাও বাড়ে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও রেমিট্যান্স সহায়ক ভূমিকা রাখে।

গত অর্থবছরজুড়ে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাহ শক্তিশালী হওয়ায় পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

তবে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ করা এবং প্রবাসীদের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগস্টের বাকি দিনগুলোর প্রবাহ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই এখন রেমিট্যান্সের সামগ্রিক চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top