২৫ বিলিয়ন থেকে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট বা গ্রস রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই শেষে যেখানে দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ হাজার ৫৮০ দশমিক ৮ মিলিয়ন (২৫.৫৮ বিলিয়ন) ডলার, সেখানে ২০২৬ সালের জুলাই শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪২২ দশমিক ২ মিলিয়ন (৩৬.৪২ বিলিয়ন) ডলারে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে মোট রিজার্ভ বেড়েছে ১০ হাজার ৮৪১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, গত দুই বছরে রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রবণতা বেশ স্পষ্ট। ২০২৪ সালের আগস্ট শেষে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ১৬৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। এরপর কয়েক মাস রিজার্ভে ওঠানামা দেখা গেলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা ৩৩ হাজার ১৭৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। মার্চে কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ১১৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। তবে এপ্রিল ও মে মাসে আবার কিছুটা পরিবর্তন হয়। ২০২৫ সালের জুন শেষে রিজার্ভ ছিল ৩৭ হাজার ৫৭৮ মিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের জুলাইয়ে অবশ্য আগের মাসের তুলনায় রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। জুনের ৩৭ হাজার ৫৭৮ মিলিয়ন ডলার থেকে জুলাই শেষে তা নেমে এসেছে ৩৬ হাজার ৪২২ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে। এক মাসে কমেছে ১ হাজার ১৫৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ। তবে এই পতনকে সামগ্রিক প্রবণতার বিচারে বড় ধরনের দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। কারণ এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই শেষে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৭৯৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে ৬ হাজার ৬২২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ।
রিজার্ভের এই উন্নতির পেছনে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানি আয়, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে উন্নতি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার প্রবাহ বাড়ার মতো বিষয়গুলোও রিজার্ভ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দিয়ে দেশের প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতা পুরোপুরি বিচার করা যায় না। কারণ গ্রস রিজার্ভের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও দায়-দেনার উপাদান থাকতে পারে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তুলনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থান মূল্যায়নে একই পদ্ধতির তথ্যের সঙ্গে তুলনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
তারপরও গ্রস রিজার্ভের বর্তমান চিত্র বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আগের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই—এই দুই বছরে প্রায় ১০ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতায় বড় পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরছে।
সামনে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় কমানো এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখা গেলে রিজার্ভের এই ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে রিজার্ভের পরিমাণের পাশাপাশি এর ব্যবহারযোগ্যতা ও বৈদেশিক দায় পরিশোধের সক্ষমতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
