loader image
শিরোনাম

যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে শুভাগমন ও ওফাত স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে বের করা হয় জশনে জুলুস ও ধর্মীয় শোভাযাত্রা। এতে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকেই বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, কর্ম, আদর্শ ও মানবতার জন্য তাঁর অবদানের ওপর আলোচনা করেন আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা। তাঁরা মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে বড় শোভাযাত্রায় পরিণত হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া মুসল্লিরা মহানবী (সা.)-এর প্রশংসা ও গুণগান করেন এবং তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করেন। অনেকের হাতে ছিল ধর্মীয় বাণীসম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন।

রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ব্যাপক আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধর্মীয় সংগঠন, মসজিদ-মাদ্রাসা ও স্থানীয় উদ্যোগে জশনে জুলুস ও শোভাযাত্রা বের করা হয়। এসব আয়োজনে শিশু-কিশোর, তরুণ, বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত, মিলাদ ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনী ও তাঁর মহান চরিত্র নিয়ে আলোচনা করেন আলেমরা। তাঁরা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা ও মানবিকতার অনন্য আদর্শ। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় মানুষের জন্য অনুসরণীয় শিক্ষা বহন করে।

ধর্মীয় আলোচনা সভাগুলোতে বক্তারা সমাজে বিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের শান্তি ও মানবতার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনেক স্থানে এতিম ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় পরিবেশে এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহানবী (সা.)-এর মানবিক ও কল্যাণমূলক আদর্শ তুলে ধরা হয়।

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত মানুষের শান্তি এবং মানবতার কল্যাণের জন্যও প্রার্থনা করা হয়।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে পালিত এই পবিত্র দিন ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও জাগ্রত করেছে। শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবতার মহান বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর বিভিন্ন আয়োজন।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top