loader image
শিরোনাম

অননুমোদিত ডিজিটাল ঋণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালিত অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব মাধ্যম থেকে ঋণ গ্রহণ না করা এবং ঋণের প্রলোভনে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নজরে এসেছে।

এসব ডিজিটাল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার সময় ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তথ্য, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ঋণের টাকা আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নজরে আসা ৩০টি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনকে অননুমোদিত ঋণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে থাকা ৩১টি অ্যাপের নাম নিচে দেওয়া হলো। তালিকায় ‘টাকা ক্যাশ লোন’ নামটি দুইবার রয়েছে, তাই আলাদা নাম হিসেবে মোট ৩০টি দেখা যাচ্ছে।

১. সাথী লোন
২. পপক্যাশ
৩. ফিনক্যাশ
৪. কুইক লোন
৫. কুইক টাকা
৬. ঢাকা ফিন
৭. লোনভাইব
৮. দোস্ত লোন
৯. টাকা ক্যাশ লোন
১০. কেওয়নজা লোন
১১. এসএসএইচ মানি
১২. লোনবাডি
১৩. সাথি লোন
১৪. ক্যাশহোরা
১৫. আলো ক্যাশ
১৬. ফাস্ট লোন
১৭. ইজি টাকা
১৮. ধৈর্য লোন
১৯. ফিন ডট ডু
২০. টাকা ক্যাশ লোন
২১. বঙ্গক্যাশ
২২. আশা লোন
২৩. সুবিধা লোন
২৪. স্মার্ট লোন বিডি
২৫. অনলাইন লোন বিডি
২৬. সিটি অনলাইন লোন
২৭. বিডি সহজ লোন
২৮. ক্যাশ লোন
২৯. সোনালী
৩০. লোনহাট
৩১. টাকানাও

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন, প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করা বৈধ নয়। বর্তমানে কোনো অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমকে ঋণ প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতাভুক্ত অপরাধ হতে পারে। এ আইনের ৪ ধারায় এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ

ঋণের প্রলোভনে কোনো অপরিচিত মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তালিকা, ছবি কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনো নামে অর্থ দাবি করা হলে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে অল্প সময়ে বড় অঙ্কের ঋণ, কম সুদ কিংবা কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ঋণের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যাচাই ছাড়া কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কেউ এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারিত হলে অথবা কোনো মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য জানতে পারলে বিএফআইইউকে অভিযোগ জানানো যাবে।

আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে ঋণ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত কি না, ঋণের শর্ত কী এবং অর্থ লেনদেনের প্রক্রিয়া বৈধ কি না—এসব বিষয় যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top