loader image
শিরোনাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হলেন হারুন-অর-রশিদ

বৈদেশিক মুদ্রা আইন ও আমদানি-রপ্তানি নীতিমালায় তার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গভীর জ্ঞান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১-এর পরিচালক মোঃ হারুন-অর-রশিদ। গত ৩১ আগস্ট থেকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত চাকরির সর্বোচ্চ পদ নির্বাহী পরিচালক (ইডি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের পদোন্নতির নীতিমালা-২০২২ অনুযায়ী মোঃ হারুন-অর-রশিদকে নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং এ পদোন্নতি ৩১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং ব্যাংকিং নীতিমালার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন মোঃ হারুন-অর-রশিদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি একজন দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।

বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসংক্রান্ত নীতিমালা ও বিধিবিধান বিষয়ে তার রয়েছে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা ও গভীর জ্ঞান। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক লেনদেনের নীতিগত বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জটিল বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার নীতিগত ও বাস্তব প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই তার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। দেশের বৈদেশিক লেনদেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এর আগে মোঃ হারুন-অর-রশিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়ে ব্যাংকিং খাতের প্রবিধান, নীতিমালা ও তদারকি-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো সম্পর্কেও তার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাপনা, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা এবং ব্যাংকিং খাতের নীতিগত সংস্কারের মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা একজন কর্মকর্তার নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল করা এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা নীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ মোঃ হারুন-অর-রশিদের নতুন দায়িত্বকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা।

একজন কর্মকর্তা হিসেবে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নীতিনিষ্ঠতার জন্য পরিচিত মোঃ হারুন-অর-রশিদের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার দীর্ঘদিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও নীতিগত জ্ঞান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। তার এই পদোন্নতিতে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন মহল অভিনন্দন জানিয়েছে এবং নতুন দায়িত্বে তার সাফল্য কামনা করেছে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top