নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ, আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও দক্ষতা আনতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট (এফএক্সএম) মডিউলের লাইভ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করে থাকে। পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্পট, ফরওয়ার্ড ও সোয়াপ লেনদেন পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।
বর্তমানে এসব কার্যক্রমের একটি বড় অংশ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়ে আসছিল। নতুন এফএক্সএম মডিউল চালুর মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে মডিউলটি উন্নয়ন করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এফএক্সএম মডিউলের লাইভ কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সিস্টেমটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমাদ এবং ফরেন রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক এ. কে. এম. রমিজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় এফএক্সএম ব্যবহারকারী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিচালন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের বিভিন্ন লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একটি সমন্বিত প্রযুক্তিগত কাঠামোর আওতায় পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজার ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নিয়মিত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে লেনদেনের তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এফএক্সএম মডিউলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন রিয়েল টাইমে সম্পাদন, নির্ভুল রেকর্ড তৈরি, প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্রুত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ওপর নজরদারিও আরও কার্যকর হবে।
বিশেষ করে রিয়েল টাইম তথ্য পাওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার তদারকি বা মার্কেট সার্ভেইলেন্স জোরদার করা সহজ হবে। বাজারের গতিপ্রকৃতি ও লেনদেনের তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সম্ভাব্য অস্থিরতা মোকাবিলা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নতুন মডিউল চালুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যাংকগুলোর তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পাওয়া গেলে ব্যাংকগুলো নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান, লেনদেনের ঝুঁকি এবং তারল্য পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছেও বাজারের সামগ্রিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থায় যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে বাজার তদারকি, নীতিনির্ধারণ এবং ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা কার্যক্রমে জবাবদিহি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এফএক্সএম মডিউলের লাইভ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা আরও জোরদার হওয়ার পথ তৈরি হলো।
