loader image
শিরোনাম

বৈদেশিক মুদ্রার আমানতের বিপরীতে ঋণের সুযোগ বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (ওবিইউ) রাখা বৈদেশিক মুদ্রার আমানতকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার সুযোগ আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব ও অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবের অর্থ জামানত রেখে স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি কার্যকরী মূলধন ঋণের পাশাপাশি ভোক্তা ঋণ বা অর্থায়ন নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রায় সঞ্চিত অর্থের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পাওয়ার পরিধি বাড়ল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর এফইপিডি-১ পরিপত্র লেটার নং-১৬ জারি করা হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জারি করা এফই সার্কুলার নং-২৭। ওই সার্কুলারের মাধ্যমে অনাবাসী হিসাবধারীদের বৈদেশিক মুদ্রার আমানত তাদের নিজ নিজ দেশীয় ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে জামানত হিসেবে রেখে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। মূলত দেশে বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা আমানতকে অর্থায়নের কাজে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই ছিল ওই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

এর আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে রাখা নির্দিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি জামানত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় মুদ্রায় ঋণ দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে অনাবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অনাবাসী হিসাবধারীদের ক্ষেত্রে এ সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আমানত অক্ষত রেখে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যবসা বা অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি হয়।

এবার সেই ব্যবস্থার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব এবং অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবের স্থিতি স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি কার্যকরী মূলধন ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এসব হিসাবের অর্থ স্থানীয় মুদ্রায় ভোক্তা ঋণ বা অর্থায়নের বিপরীতেও জামানত হিসেবে গ্রহণ করা যাবে।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এ ধরনের ঋণ বা অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া যাবে। ফলে ব্যবসায়িক প্রয়োজনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা অন্যান্য বৈধ অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রার আমানত জামানত হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো।

তবে এ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনায় থাকা শর্ত ও বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। বিশেষ করে ঋণ প্রদান, জামানত গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে আগের পরিপত্রের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদটি সংশোধন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পরিপত্রের অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার আমানতকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর ফলে আমানতকারীদের অর্থ ব্যবহারে নমনীয়তা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার বৈধ আমানত ধরে রেখে স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় সঞ্চিত অর্থ রয়েছে, কিন্তু স্থানীয় মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন, তাদের জন্য এ ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

Please follow and like us:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top