বিডিবিজনিউজ ডেস্ক:
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: জনস্বার্থে অ্যাকাউন্টিং পেশার উন্নয়ন, পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) একটি জয়েন্ট কলাবোরেশন ফ্রেমওয়ার্ক (জেসিএফ) স্বাক্ষর করেছে।
বুধবার রাজধানীর সিএ ভবনের আইসিএবি কাউন্সিল হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ সহযোগিতা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আইসিএবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কামরুজ্জামান এবং আইসিএমএবির নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মো. মাহবুব উল আলম এফসিএমএ এতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট সাব্বীর আহমেদ এফসিএ, আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট কাওসার আলম এফসিএমএ, আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফুর রহমান এফসিএ, মোহাম্মদ রেদওয়ানুর রহমান এফসিএ, কাউন্সিল মেম্বার মো. মনিরুজ্জামান এফসিএসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইসিএবির প্রেসিডেন্ট সাব্বীর আহমেদ এফসিএ বলেন, জাতীয় স্বার্থে অ্যাকাউন্টিং পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কণ্ঠস্বর অভিন্ন হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী পেশাজীবী অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। এর ফলে পেশাটির প্রতি মেধাবী ও দক্ষ তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশেও হিসাব পেশার বিকাশ এবং জাতীয় উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের কোনো বিকল্প নেই।
আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট কাওসার আলম এফসিএমএ বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও নীতিনির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে জাতীয় পর্যায়ে অ্যাকাউন্টিং পেশার অবদান আরও জোরালো হবে। একই সঙ্গে উভয় প্রতিষ্ঠান দেশের অ্যাকাউন্টিং পেশার একটি শক্তিশালী জাতীয় কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, স্বাক্ষরিত জয়েন্ট কলাবোরেশন ফ্রেমওয়ার্ক আইসিএবি ও আইসিএমএবির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্টিং পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি, পেশাগত উৎকর্ষ সাধন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জেসিএফের আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রম, গবেষণা ও প্রকাশনা পরিচালনা করবে। পাশাপাশি নীতিগত বিষয়ে মতামত প্রদান, পেশাগত সম্মেলন, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া পেশাগত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে যৌথভাবে প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিও সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় রাখা হয়েছে। দেশের অ্যাকাউন্টিং পেশার আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পেশাজীবী ফোরামগুলোতেও উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেবে।
জেসিএফের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য আইসিএবি ও আইসিএমএবির সমান প্রতিনিধিত্বে একটি যৌথ সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহযোগিতা কাঠামো বাংলাদেশের অ্যাকাউন্টিং পেশার উন্নয়ন, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং জনস্বার্থে নীতিনির্ধারণে পেশাজীবীদের ভূমিকা আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
