নিজস্ব প্রতিবেদক
দখলবাজি, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে সারাদেশে আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার এক বিবৃতিতে টিআইবি রাজধানীর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা এবং একটি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে দলীয় নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তি ও জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে। ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, কেবল ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে সংঘাত ও সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদাবাজির অভিযোগও অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের মতো ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে না দেখে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এসব ঘটনা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে এবং জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা তৈরি করতে পারে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু সাময়িক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ যথেষ্ট নয়। দখলবাজি, চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
টিআইবি আরও বলেছে, দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে কোনো ব্যক্তি আইনগত ব্যবস্থা থেকে ছাড় পেলে দেশে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
অনতিবিলম্বে সাম্প্রতিক প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে দলীয় পর্যায়ে আত্মশুদ্ধিমূলক কার্যক্রম জোরদার করে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
